News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিশেষ সংবাদদাতা : খবর 2026-10-31, 4:57pm

এইচএসসির ফল প্রকাশে মিষ্টির দোকানে নেই প্রত্যাশিত ভিড়, হতাশ ব্যবসায়ীরা

mishti-2-1793439855-73edf956e31979a11d4a457b6bb83a621793444251.jpg


এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশকে ঘিরে রাজধানীর মিষ্টির দোকানগুলোতে এবার দেখা যায়নি চিরচেনা উৎসবের আমেজ। পাসের হার কম হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস যেমন ছিল তুলনামূলক কম, তেমনি এর প্রভাব পড়েছে মিষ্টি বিক্রিতেও। ফল প্রকাশের দিন প্রত্যাশিত ক্রেতা না আসায় কিছুটা হতাশ ব্যবসায়ীরা। তবে আগামী এক-দুই দিনে বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী তারা।

শনিবার ফল প্রকাশের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকান ঘুরে দেখা যায়, কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মিষ্টি কিনতে এলেও অন্যান্য বছরের মতো ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল না। সকাল থেকে কয়েক দফা বৃষ্টিও ক্রেতাদের উপস্থিতি কমার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বিজয়নগরের মুসলিম সুইটসের ক্যাশিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার পাসের হার কম হওয়ায় মিষ্টি বিক্রি নিয়ে আগে থেকেই কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি হিসেবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি মিষ্টি তৈরি করেছিলেন তারা। কিন্তু সে অনুযায়ী বিক্রি হয়নি।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে যে পরিমাণ বিক্রির প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

একই চিত্র দেখা গেছে মালিবাগের বনফুল সুইটসেও। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দোকানটিতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। দোকানটির ব্যবস্থাপক জানান, ফল প্রকাশের পরপরই মিষ্টির দোকানগুলোতে যে ধরনের ভিড় তৈরি হয়, এবার তেমন চিত্র দেখা যায়নি। ফলে বিক্রিও প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে।

তবে সব শিক্ষার্থীর ফল যে হতাশাজনক, তা নয়। মেয়ের ভালো ফলের আনন্দ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে মিষ্টি কিনতে এসেছেন অভিভাবক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মেয়ের ফল ভালো হয়েছে। তাই পরিবারের সবাই মিলে মিষ্টি কিনতে এসেছেন। তবে এবার অনেক শিক্ষার্থীর ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় আগের মতো মিষ্টি কেনার উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত প্রাণ গ্রুপের মিষ্টির ব্র্যান্ড ‘মিঠাই’-এর বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব বিক্রয়কেন্দ্রেও ফল প্রকাশ ঘিরে প্রত্যাশিত ক্রেতার সমাগম কতটা হয়েছে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে আগ্রহ।

ব্যবসায়ীরা জানান, সাত-আট বছর আগেও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি মিষ্টি বিক্রি হতো। তবে করোনার পর থেকে সেই বিক্রি কমতে শুরু করে। বর্তমানে ফল প্রকাশের দিন বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ফল প্রকাশের দিন মিষ্টি কেনার প্রবণতা থাকলেও এবার প্রথম দিনেই সেই চেনা চিত্র দেখা যায়নি।

তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ফল প্রকাশের দিনটি শনিবার হওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে অনেকেই মিষ্টি কিনতে বের হননি। ছুটির দিন শেষে অফিস-আদালত খুললে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিষ্টি কেনার প্রবণতা বাড়তে পারে। আগামী এক-দুই দিনেও ফল উদ্‌যাপন চলবে বলে আশা করছেন তারা। এতে প্রথম দিনের বিক্রির ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।