
ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, মুমিনরা জান্নাতে আল্লাহ তাআলার দিদার (দর্শন) লাভ করবেন—এটি জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতগুলোর একটি। দুনিয়াতে কেউ আল্লাহকে চোখে দেখে তাঁর দিদার লাভ করতে পারে না; তবে ঈমান, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে একজন মুমিন আখিরাতে সেই মহান সৌভাগ্যের অধিকারী হতে পারেন।
আল্লাহর দিদার লাভের জন্য করণীয়
শুদ্ধ ঈমান ও তাওহিদ
আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে হবে এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে।
নামাজ কায়েম করা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা এবং নামাজে আল্লাহর প্রতি গভীর মনোযোগ ও খুশু অর্জনের চেষ্টা করা জরুরি।
গুনাহ থেকে তওবা করা
মানুষ ভুল করতেই পারে। কিন্তু গুনাহ হয়ে গেলে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে।
কুরআন ও জিকিরের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা
নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইস্তিগফার ও জিকির করলে অন্তর আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত থাকে।
নেক আমল ও উত্তম চরিত্র
মানুষের হক আদায়, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, দান-সদকা এবং মানুষের প্রতি দয়া—এসব আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ।
আল্লাহকে ভালোবাসা ও তাঁর সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা
একজন মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং আখিরাতে তাঁর সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত। তবে এই আকাঙ্ক্ষা যেন শুধু কথায় নয়, বরং নেক আমলের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“সেদিন কিছু মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল, তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।”
— সূরা আল-কিয়ামাহ, ২২–২৩
আর রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, জান্নাতবাসীরা তাদের রবকে দেখবে—যেমন মানুষ পূর্ণিমার চাঁদকে স্পষ্টভাবে দেখে। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
সুতরাং, আল্লাহর দিদার পাওয়ার সবচেয়ে বড় পথ হলো—শুদ্ধ ঈমান, ফরজ ইবাদত, সুন্নাহ অনুসরণ, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, আন্তরিক তওবা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জীবন পরিচালনা করা। শেষ পর্যন্ত এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়া।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু দান করুন এবং জান্নাতে তাঁর মহান দিদার লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।