News update
  • যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের     |     
  • কিশোর গ্যাং দমনে কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযান: আটক ৬২৪     |     
  • এল নিনোর প্রভাবে ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা     |     
  • ভারতে স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯     |     
  • বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ধর্ম ও জীবন 2026-09-03, 5:56am

তাবলিগ জামাতের প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা এহসানুল হক মারা গেছেন

mawlana-ahsanul-h-7c8b6486e631e66f38d6cb57d520a84e1788393370.jpg

তাবলিগ জামাতের প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক ছবি: সংগৃহীত


তাবলিগ জামাতের প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।) পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাবলিগ জামাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে।


বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ আলমি শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।


তিনি জানান, মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রায়বেন্ডসহ বিশ্বের তাবলিগ জামাতের আলমি শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে যুক্ত ছিলেন।


মাওলানা এহসানুল হক দীর্ঘদিন দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতের মাধ্যমে মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখেন। ইলম শিক্ষা, শিক্ষকতা ও দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি তিনি তাবলিগের প্রবীণ মুরব্বিদের সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।


পারিবারিকভাবেও তিনি তাবলিগ জামাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের আমির বাবু বশির সাহেবের সন্তান। বাবু বশির সাহেব বাংলাদেশে তাবলিগের মেহনত এগিয়ে নিতে কাজ করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, তিনি তাঁর সন্তানকে দ্বীনের কাজের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।


শিক্ষাজীবনে মাওলানা এহসানুল হক ভারতের সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি মাওলানা হারুন সাহেবের সঙ্গে একই সময়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর কাছে হাদিস অধ্যয়ন করেন। পরে দীর্ঘদিন তাঁর খেদমতেও নিয়োজিত ছিলেন।


ছাত্রজীবনেই তাঁর ইলমি ও রুহানি যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পড়াশোনা শেষে তৎকালীন আলেমদের তাবলিগে সময় দেওয়ার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিনি সাত চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হন।


তাবলিগের নির্ধারিত সময়ের মেহনত শেষে তিনি ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। সেখানে মাওলানা হারুন সাহেবের সঙ্গেও শিক্ষকতা করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।


মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে চলে যান। এরপর ইলম শিক্ষা ও দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি মারকাজের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তাবলিগের মেহনতের পাশাপাশি মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর খান্দানের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।


দীর্ঘ ইলমি জীবন, প্রবীণ আলেম ও মুরব্বিদের সান্নিধ্য এবং দাওয়াতি কাজে অবদানের কারণে মাওলানা এহসানুল হক তাবলিগ জামাতের অঙ্গনে পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।


তাঁর মৃত্যুতে পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাবলিগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দাওয়াত ও তাবলিগের অঙ্গন একজন প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেমকে হারাল।