
ফজরের ফরজ নামাজের পর জিকির, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে দিনের শুরু করা যেতে পারে।
ফজরের নামাজ দিনের শুরুতে একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ফরজ নামাজ আদায়ের পর কিছু সময় জিকির, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে কাটানো হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং আল্লাহর স্মরণে দিন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিভিন্ন হাদিসে সকালবেলার জিকির ও দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
ফজরের ফরজ নামাজের পর একজন মুসলমান চাইলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ইস্তিগফার, আয়াতুল কুরসি, তিন কুল, তাসবিহ, তাহমিদ, তাকবির, দরুদ শরিফ ও বিভিন্ন মাসনুন দোয়া।
ফরজ নামাজ শেষ করে তিনবার ইস্তিগফার পড়া সুন্নাহ। নামাজ শেষে বলা যায়,
أَسْتَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
এরপর পড়া যায়,
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনিই শান্তির উৎস এবং আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী, আপনি বরকতময়।
ফজরের ফরজ নামাজের পর সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত, অর্থাৎ আয়াতুল কুরসি পাঠ করা যেতে পারে। এতে আল্লাহর মহত্ত্ব, ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের কথা স্মরণ করা হয়।
সকালের জিকিরের মধ্যে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ গুরুত্বপূর্ণ। সকাল ও সন্ধ্যার জিকির হিসেবে এগুলো তিনবার করে পড়ার কথা হাদিসে এসেছে।
নামাজের পর জিকির হিসেবে পড়া যায়,
সুবহানাল্লাহ ৩৩ বারআলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বারআল্লাহু আকবার ৩৩ বারএরপর ১০০ পূর্ণ করতে পড়া যায়:
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তারই এবং সব প্রশংসাও তার। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
সকালে পড়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিভিন্ন দোয়া রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে,
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা, ওয়া বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা নাহইয়া, ওয়া বিকা নামুতু, ওয়া ইলাইকাল নুশুর।
অর্থ: হে আল্লাহ, তোমারই সাহায্যে আমরা সকালে উপনীত হই, তোমারই সাহায্যে সন্ধ্যায় উপনীত হই, তোমারই সাহায্যে আমরা জীবিত থাকি এবং তোমারই সাহায্যে মৃত্যুবরণ করি। আর তোমার কাছেই পুনরুত্থান।
ফজরের পর কিছু সময় দরুদ শরিফ ও ইস্তিগফার পড়া যায়। পাশাপাশি নিজের, পরিবারের সদস্যদের এবং সব মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা যেতে পারে।
সকালের সময় কোরআন তিলাওয়াতের জন্যও অত্যন্ত উপযোগী। ফজরের নামাজের পর তিলাওয়াত করলে দিনের শুরুতেই আল্লাহর বাণীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক তৈরি হয়। নিয়মিত অল্প অল্প করে কোরআন পড়ার অভ্যাস একজন মুসলমানের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফজরের নামাজের পর জিকির, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে সময় কাটানো যায়। এরপর সূর্যোদয়ের কিছু সময় পর ইশরাকের নামাজ আদায় করা যায়। তবে নামাজের নিষিদ্ধ সময়ের বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি।
দিনের শুরুটা যদি আল্লাহর জিকির ও ইবাদতের মাধ্যমে করা যায়, তাহলে তা একজন মুমিনের জন্য আত্মিক প্রশান্তির কারণ হতে পারে। তাই ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও ফজরের নামাজের পর কিছু সময় আল্লাহর স্মরণে কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।