News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
বঙ্গলোক ডেস্ক তথ্য ও প্রযুক্তি 2026-09-02, 9:36am

রোগ নির্ণয় থেকে অস্ত্রোপচার, সবখানেই প্রযুক্তির জয়

dg-2f7e54fe9de9db73067f562bc22d6eae1788320186.jpg


রোগ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার, ওষুধ আবিষ্কার থেকে রোগীর সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ—চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক সার্জারি, জিন সম্পাদনা, টেলিমেডিসিন, থ্রিডি প্রিন্টিং ও উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি চিকিৎসাব্যবস্থাকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দ্রুততা, নির্ভুলতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা ক্রমেই বাস্তবতা হয়ে উঠছে।


২০২৬ সালে এসে এই পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সম্প্রতি লন্ডনে চিকিৎসকেরা এআইয়ের সহায়তায় মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণের একটি সফল অস্ত্রোপচার করেছেন। অস্ত্রোপচারের সময় এআই ব্যবস্থা ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ও রক্তনালির অবস্থান শনাক্ত করতে চিকিৎসকদের সহায়তা করেছে। গবেষণাভিত্তিক এই প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসায় এআইয়ের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের শুধু সহায়ক উপকরণ নয়; বরং রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।


এআইয়ে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ শনাক্ত


চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে। বিপুল পরিমাণ রোগীর তথ্য, চিকিৎসা ইতিহাস, পরীক্ষার ফলাফল ও মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণ করে এআই রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে।


এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের রোগ ও স্নায়ুরোগের ক্ষেত্রে রোগের সূক্ষ্ম পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করতে এ প্রযুক্তি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন রোগ শনাক্তকরণের পাশাপাশি ঝুঁকি নিরূপণ, রোগীর তথ্য সাজানো এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় সহায়তার দিকেও এগোচ্ছে।


তবে এআইকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। রোগীর শারীরিক পরীক্ষা, চিকিৎসা ইতিহাস ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্য বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব চিকিৎসকেরই। এআই মূলত চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও তথ্যভিত্তিক ও দ্রুত করতে সহায়তা করছে।


মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারে এআইয়ের নতুন দিগন্ত


চলতি বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআইয়ের সবচেয়ে আলোচিত অগ্রগতির একটি হলো মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণে এআইয়ের সহায়তা।


লন্ডনের ন্যাশনাল হসপিটাল ফর নিউরোলজি অ্যান্ড নিউরোসার্জারির চিকিৎসকেরা মে মাসে একটি অস্ত্রোপচারে এআই ব্যবহার করেন। অস্ত্রোপচারের সময় এআই ব্যবস্থা রোগীর মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, স্নায়ু ও রক্তনালির অবস্থান শনাক্ত করে সার্জনদের নির্দেশনায় সহায়তা করে। টিউমারটি ছিল পিটুইটারি গ্রন্থির কাছে, যেখানে সামান্য ভুলও দৃষ্টিশক্তি হারানো, স্ট্রোক কিংবা গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।


এই ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও জটিল ও সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা, নির্ভুলতা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা যাচাই করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


রোবোটিক সার্জারিতে বাড়ছে নিখুঁততা


অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি এনেছে বড় পরিবর্তন। রোবোটিক সার্জারিতে চিকিৎসক বিশেষ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে রোবটিক যন্ত্র পরিচালনা করেন। এর ফলে শরীরের গভীর ও সূক্ষ্ম অংশে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়।


অনেক ক্ষেত্রে বড় কাটাছেঁড়ার পরিবর্তে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা যায়। এতে রক্তক্ষরণ, ব্যথা ও হাসপাতালে থাকার সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। রোবোটিক সিস্টেমের সূক্ষ্ম নড়াচড়া চিকিৎসকদের জটিল অস্ত্রোপচারে বাড়তি নিয়ন্ত্রণও দিতে পারে।


২০২৬ সালেও রোবোটিক সার্জারি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে, মেডট্রনিক চলতি বছর রোবোটিক সার্জারি সম্প্রসারণে ৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রোবোটিক সার্জারি ব্যবস্থা আরও আন্তর্জাতিক বাজারে বিস্তারের পরিকল্পনা করছে।


তবে এ প্রযুক্তির উচ্চ ব্যয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর ব্যবহার এখনো সীমিত।


টেলিমেডিসিনে দূরত্ব কমছে


প্রযুক্তির আরেকটি বড় সাফল্য টেলিমেডিসিন। ইন্টারনেট, ভিডিও কল ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রোগীরা দূরে অবস্থান করেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন।


বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে টেলিমেডিসিনের সম্ভাবনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাঁদের উপস্থিতি সীমিত। ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে গ্রামের রোগীও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।


বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন হটলাইন থেকে শুরু করে এআই-সমৃদ্ধ হাসপাতালব্যবস্থা পর্যন্ত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে চিকিৎসক, রোগী, ওষুধ ও চিকিৎসা-পরামর্শকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কাছাকাছি আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।


সাম্প্রতিক গবেষণাতেও বাংলাভাষী রোগীদের চিকিৎসা-আলাপ বিশ্লেষণ করে নিরাপদ মেডিকেল এআই তৈরির উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘DocTalkBN’ নামে একটি গবেষণায় বাস্তব টেলিমেডিসিন আলাপের বড় একটি বাংলা ডেটাসেট তৈরি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাভাষী চিকিৎসা এআই উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে।


স্মার্টওয়াচেও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ


পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বা ওয়্যারেবল ডিভাইস চিকিৎসাব্যবস্থায় আর শুধু ফিটনেসের উপকরণ নয়। স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য ডিভাইসের মাধ্যমে হৃদ্‌স্পন্দন, শারীরিক কার্যক্রম, ঘুমসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।


দীর্ঘ সময়ের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে রোগীর স্বাভাবিক অবস্থার সঙ্গে পরিবর্তন তুলনা করা যায়। ভবিষ্যতে এসব তথ্য চিকিৎসকদের কাছে রোগীর দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে পারে।


তবে স্মার্টওয়াচের তথ্যকে সরাসরি রোগ নির্ণয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।


জিন সম্পাদনায় রোগের মূল কারণ মোকাবিলা


চিকিৎসাবিজ্ঞানে আরেকটি যুগান্তকারী ক্ষেত্র হলো জিন প্রযুক্তি ও জিন সম্পাদনা। বিশেষ করে CRISPR-এর মতো প্রযুক্তি নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত ও সংশোধনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।


২০২৬ সালে জিন থেরাপি ও জিন সম্পাদনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে। সিকল সেল রোগ, কিছু বিরল জেনেটিক রোগ এবং নির্দিষ্ট ক্যানসারের ক্ষেত্রে জিনভিত্তিক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা ও প্রয়োগ এগিয়ে যাচ্ছে।


সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতও শিশুদের বিরল স্নায়ু ও জেনেটিক রোগের চিকিৎসায় জিন থেরাপির প্রকল্প ঘোষণা করেছে। এসব উদ্যোগ রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রোগের মূল জৈবিক কারণ মোকাবিলার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।


এআই দিয়ে ওষুধ আবিষ্কারেও পরিবর্তন


নতুন ওষুধ আবিষ্কারের প্রক্রিয়াও প্রযুক্তির কারণে বদলে যাচ্ছে। আগে কোনো নতুন ওষুধের কার্যকর উপাদান খুঁজে বের করতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। এখন এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য ওষুধের কার্যকারিতা অনুমান এবং প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা দ্রুত করার চেষ্টা চলছে।


চীনে এআই ব্যবহার করে ওষুধ উন্নয়ন ও ক্লিনিক্যাল প্রয়োগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এআই মডেল দিয়ে ওষুধের যৌগ স্ক্রিনিং এবং গবেষণার কাজ করা হচ্ছে।


এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের প্রাথমিক পর্যায়ের সময় ও ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কোনো এআই মডেল সম্ভাবনাময় ওষুধ শনাক্ত করলেও সেটি মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে দীর্ঘ পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন।


থ্রিডি প্রিন্টিংয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা


থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রোগীর শরীরের মাপ ও প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম অঙ্গ, ইমপ্ল্যান্ট ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।


অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গের থ্রিডি মডেল তৈরি করে চিকিৎসকেরা জটিল অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করতে পারেন। ভবিষ্যতে জীবন্ত কোষ ব্যবহার করে টিস্যু ও অঙ্গ তৈরির গবেষণা সফল হলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।


উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তিতে রোগ নির্ণয়ে বিপ্লব


সিটি স্ক্যান, এমআরআই, পেট স্ক্যান ও আধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাফি চিকিৎসকদের শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।


ক্যানসারের অবস্থান ও বিস্তার নির্ণয়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন, মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


এর সঙ্গে এআই যুক্ত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মেডিকেল ইমেজ দ্রুত বিশ্লেষণ করার সম্ভাবনাও বাড়ছে।


বাংলাদেশেও বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা


বাংলাদেশেও চিকিৎসাক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল রোগীর তথ্য, আধুনিক ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দিকে এগোচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য খাত।


তবে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, আধুনিক যন্ত্রপাতির উচ্চ মূল্য, রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সুবিধার সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার বিস্তারে বাধা হয়ে আছে।


শুধু উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানি করলেই হবে না। এগুলো পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।


প্রযুক্তির সঙ্গে বাড়ছে নৈতিকতার প্রশ্ন


চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে নৈতিকতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত হলে তা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এআইয়ের কোনো সিদ্ধান্ত ভুল হলে তার দায় কার—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরিবর্তে কোনো অ্যালগরিদমকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


এ ছাড়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যয়বহুল হলে ধনী ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার ব্যবধান বাড়তে পারে। তাই প্রযুক্তির সুফল যেন সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।


ভবিষ্যতের চিকিৎসা আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক


চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। এআই, রোবট, জিন প্রযুক্তি, ডেটা বিশ্লেষণ, টেলিমেডিসিন ও পরিধানযোগ্য ডিভাইস একসঙ্গে ব্যবহার করে রোগীর জন্য আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।


২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রবণতাগুলোও দেখাচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থা ‘এক রোগে সবার জন্য একই চিকিৎসা’ ধারণা থেকে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও নির্ভুল চিকিৎসার দিকে এগোচ্ছে।


তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, চিকিৎসকের মানবিক ভূমিকা অপরিহার্য। রোগীর কথা শোনা, তাঁর মানসিক অবস্থা বোঝা, চিকিৎসার ঝুঁকি ও সুবিধা ব্যাখ্যা করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই।


সব মিলিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা শুধু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পদ্ধতিই বদলে দিচ্ছে না; বদলে দিচ্ছে মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও। এআই-সহায়ক অস্ত্রোপচার থেকে জিন থেরাপি, স্মার্ট ডিভাইস থেকে টেলিমেডিসিন—সব মিলিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে দ্রুততা, নির্ভুলতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা হবে আগামী দিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।


তবে এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবকে মানুষের কল্যাণে কার্যকর করতে হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি চিকিৎসকের দক্ষতা, তথ্যের নিরাপত্তা, নৈতিকতা এবং সবার জন্য সমান চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবন রক্ষার শক্তিতে পরিণত হবে।