News update
  • শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন     |     
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা     |     
  • হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে     |     
বঙ্গলোক রিপোর্ট নগর-মহানগর 2026-07-30, 9:19am

এনসিপির শীর্ষ নেতারা আজ সিলেট আসছেন, নিরাপত্তায় ৫ প্লাটুন বিজিবি

bgb-38b7e00f5ccce1bfce8a30d9cad5131d1785381568.jpg


হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি ঘিরে হামলা ও উত্তেজনার ঘটনার পর দুই দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেট আসছেন দলটির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা। তাদের সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ৫ প্লাটুন বিজিবিসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের সফরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।


সফরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকালে গোলাপগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এনসিপির নেতারা। পরে বিকেল ৩টায় কানাইঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ওসমানীনগরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।


সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ, বিকেল ৫টায় গোয়াইনঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় জৈন্তাপুরে পদযাত্রা ও সমাবেশ করার কথা রয়েছে।


এদিকে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ স্থানীয় নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এর পরদিন হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব ঘটনার প্রভাব সিলেটের কর্মসূচিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যাচ্ছে। দলটির নেতাদের অভিযোগ, একটি পক্ষ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে ঘিরে এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি তাদের।


তবে ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েব আহমদ বলেন, ‘আমরা একটি আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি, কাউকে আঘাত করিনি। তবে কেউ যদি হিংসাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং এর ফলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। আমরা আশা করি, এনসিপির নেতারা দায়িত্বশীল বক্তব্য দেবেন এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।’


এদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন উপলক্ষে কানাইঘাটে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এনসিপির স্থানীয় নেতারা। দলের সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ বুরহান উদ্দিন ইউসুফ বলেন, কর্মসূচি সফল করতে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি বড় রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার জুনেদ আহমদ বলেন, ‘সিলেট সব সময় সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের অঞ্চল। হবিগঞ্জে যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সিলেটে যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে আমি ডিআইজির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এনসিপি কখনো কাউকে উসকানি দেয়নি বা বলপ্রয়োগের রাজনীতি করে না।’


তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সব রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিককে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।


এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলে তারা আশাবাদী। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।


সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন বলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে সাদা পোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), এপিবিএন ও জেলা পুলিশের পাশাপাশি ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।