
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বায় ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ উপলক্ষে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখা। বুধবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলোর বিচার দাবি জানান।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ড. সিরাজুল হক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে একটি ‘সন্ত্রাসী গ্রুপ’ প্রায় ৩ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং হামলা-সহিংসতার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। তিনি দাবি করেন, এর পর একটি অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে এবং ওই সময় শত শত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। তাঁর অভিযোগ, সেই সরকার দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ‘মুচলেকা সরকার’ ক্ষমতায় এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ অনুপস্থিত। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণমানুষের দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরবেন এবং পুলিশ হত্যার বিচার একদিন বাংলার মাটিতেই হবে।
সভায় বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত পুলিশ হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না। তাই পুলিশ হত্যার বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতেই হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত পুলিশ সদস্যদের হত্যার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর সহিংসতা, দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভা শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা লাকেম্বার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পুলিশ হত্যার বিচার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান।