News update
  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহেশখালীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন     |     
  • বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৫তম     |     
  • হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ইরানের ছয় শর্ত     |     
  • দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী     |     
  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়বে জামায়াত, রোববার প্রার্থী ঘোষণা     |     
সিডনি প্রতিনিধি: প্রবাস বাংলা 2026-08-08, 11:22am

মেলবোর্নে বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযান

whatsapp-image-2026-08-08-at-9-931cceca556eb2a19d55bd8dfc27c7581786166538.jpeg


অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী মেলবোর্নে একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ কনস্যুলেট অথবা সহকারী হাইকমিশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে নতুন করে গণস্বাক্ষর (পিটিশন) অভিযান শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

বর্তমানে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকাংশ কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, ভিসা, জন্মনিবন্ধন, নথি সত্যায়নসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে অনেককেই আন্তঃরাজ্য ভ্রমণ করতে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ডাকযোগে পাঠানোর প্রয়োজন হয়। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রবাসীদের।

পিটিশন আয়োজকদের দাবি, মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটির বসবাস। প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থী, দক্ষ পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও অভিবাসীদের আগমনে ভিক্টোরিয়ায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। এ বাস্তবতায় মেলবোর্নে বাংলাদেশের একটি স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।

গণস্বাক্ষর পিটিশনে বলা হয়েছে, মেলবোর্নে বাংলাদেশ সরকারের একটি স্থায়ী কনস্যুলার মিশন চালু করা হলে ভিক্টোরিয়াসহ আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা দ্রুত, সহজ ও কার্যকরভাবে বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গণস্বাক্ষর অভিযানে অংশ নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, কনস্যুলার সেবা নিতে ক্যানবেরায় যেতে হলে কর্মজীবী অনেক মানুষকে ছুটি নিতে হয়। পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। দূরত্বের কারণে জরুরি নথিপত্রের কাজেও অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। তাদের মতে, ভিক্টোরিয়ায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর বর্তমান সংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় মেলবোর্নে কোনো স্থায়ী কনস্যুলার ব্যবস্থা না থাকা একটি বড় ঘাটতি।

কমিউনিটির নেতারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নাগরিক ও কনস্যুলার সেবার চাহিদাও বাড়ছে। মেলবোর্নে একটি পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলেট কিংবা সহকারী হাইকমিশন প্রতিষ্ঠা হলে শুধু কনস্যুলার সেবাই সহজ হবে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে প্রবাসী কমিউনিটির যোগাযোগ আরও সুসংহত হবে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে বাংলাদেশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং মেলবোর্নে একটি পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলেট বা সহকারী হাইকমিশন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

প্রবাসীদের মতে, মেলবোর্নে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান আকার, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর বিবেচনায় এ উদ্যোগ এখন আর বিলাসিতা নয়; বরং প্রবাসীদের ন্যায্য ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার অংশ।