
ক্যানসার কোনো সীমান্ত, জাতি কিংবা সংস্কৃতি মানে না। তাই এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়েও প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ—এমন বার্তা সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্যাফোডিল ডে উপলক্ষে তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি। ক্যানসার গবেষণা, আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদয় ইনকের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন।
রোববার (৯ আগস্ট) সিডনির গ্লেনফিল্ড কমিউনিটি হলে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ক্যানসার কাউন্সিলের সহায়তায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিডনির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটির সদস্য, পরিবার-পরিজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উদয় ইনকের সভাপতি ড. লায়লা আরজুমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অভিবাসন ও বহুসাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী ফিলিপ ম্যাক্সওয়েল রাডক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য সংসদের লেপিংটন আসনের এমপি ও হুইপ নাথান হ্যাগার্টি। এছাড়া বক্তব্য দেন ক্যাম্বেলটন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, ইব্রাহিম খলিল মাসুদ ও আশিকুর রহমান অ্যাশ এবং ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান টুম্পা।
বক্তারা বলেন, ক্যানসার আজ বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বয়স, পেশা, আর্থিক অবস্থা কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয়—কোনো কিছুই এ রোগের ঝুঁকি থেকে মানুষকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখে না। ফলে ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসার পাশাপাশি উন্নত গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত একজন মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদেরও দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এ কারণে রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের পরিবারের প্রতিও মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ গামা আবদুল কাদির, ড. শাখাওয়াত নয়ন, মোহাম্মাদ শফিকুল আলম, কামাল পাশা, সাংবাদিক এএইচএম মাসুম বিল্লাহ, হাজী মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন, নাসিম সামাদ, মো. হারুনূর রশিদ, মিলি ইসলাম, কাশফুল আসমা আলম, সাকিনা আক্তার ও নাইম আবদুল্লাহসহ আরও অনেকে।
আয়োজকরা জানান, ড্যাফোডিল ডে অস্ট্রেলিয়ায় ক্যানসার গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ক্যানসার গবেষণায় সহায়তা করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশে উৎসাহিত করা হয়।
উদয় ইনকের এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক ছিল বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষকে একটি মানবিক উদ্দেশ্যে একত্র করা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং গবেষণা ও সহায়তা কার্যক্রমে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কমিউনিটির সদস্যরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু তহবিল সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করে। বিশেষ করে বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ যখন একটি মানবিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে একত্র হন, তখন তা সমাজে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করে।
উদয় ইনকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই দীর্ঘমেয়াদি। এই লড়াইয়ে গবেষক, চিকিৎসক, রোগী ও তাদের পরিবারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ছোট ছোট অনুদান ও সম্মিলিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে ক্যানসার গবেষণা ও রোগীদের সহায়তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্য। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতিরও একটি আবহ তৈরি হয় পুরো আয়োজনজুড়ে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথি, স্বেচ্ছাসেবী, কমিউনিটির সদস্য ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।