
ছবি: সংগৃহীত
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ৮৯ শতাংশ পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে এবং ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের জমানো সব সঞ্চয় শেষ করেছে। সরকারি হাসপাতালে হামের চিকিৎসা বিনামূল্যে হওয়া সত্ত্বেও আনুষঙ্গিক ও পরোক্ষ খরচের কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে।
হামের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক খাতে প্রতিটি পরিবারকে গড়ে ১৬,০০০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। চিকিৎসা খরচ চালাতে ৪ শতাংশ পরিবার তাদের সম্পদ বিক্রি করেছে এবং ৩ শতাংশ পরিবার বিভিন্ন অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে। অসুস্থ সদস্যের পাশে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে অনেক অভিভাবক কাজ হারিয়েছেন বা তাদের নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেছে। জরিপভুক্ত রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের বয়স ৪ বছরের নিচে, ১৯ শতাংশের বয়স ৫-১৭ বছর এবং ৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের বেশি।
দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২,৭৪৬টি হামে আক্রান্ত পরিবারের ওপর এই যৌথ মূল্যায়ন পরিচালনা করা হয়. প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব যাচাই করার পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২,৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা (প্রতি পরিবারকে ১০,০০০ টাকা) প্রদানের জন্য এই জরিপের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া শতভাগ পরিবারই জানিয়েছে যে সংকটের এই সময়ে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ওষুধ সহায়তা: ৩৫ শতাংশ পরিবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি ৩৩ শতাংশ পরিবার, খাদ্য সহায়তা ২২ শতাংশ পরিবার।
জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক বা ইনফরমাল খাতে কর্মরত। তাদের মাসিক গড় আয় ৬,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার মধ্যে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিবারগুলো চরম ঋণগ্রস্ততার শিকার হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দেশে একটি টেকসই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে বিডিআরসিএস ও আইএফআরসি।