News update
  • ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪     |     
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-10-13, 8:52am

নির্বাচনী সমাবেশে অভিবাসীদের আক্রমণ ট্রাম্পের

রিপাবলিকানদের প্রচারে নতুন বিতর্ক

trump-6ad5d29de368db3dcf6f9d8e133a223a1791859960.jpg

ওহাইওতে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমাবেশে অভিবাসননীতি ও সোমালি-হাইতিয়ান অভিবাসীদের নিয়ে তার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশে সোমালি ও হাইতিয়ান অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবারের ওই সমাবেশে তিনি সিনেটর জন হাসটেডের পুনর্নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি অভিবাসননীতি নিয়ে নিজের প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে বক্তব্য দেন। একই অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ম্যাক্স মিলারের উপস্থিতির জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগের মুখেও পুনর্নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মিলার।

সমাবেশে অভিবাসন ছিল ট্রাম্পের বক্তব্যের অন্যতম প্রধান বিষয়। তিনি মিনেসোটার বড় সোমালি অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন এবং ওহাইওর স্প্রিংফিল্ড শহরে বসবাসরত হাইতিয়ানদের প্রসঙ্গও তোলেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হাইতিয়ান অভিবাসীরা স্প্রিংফিল্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোষা প্রাণী ধরে খাচ্ছেন। তবে ওই অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সোমবারের সমাবেশে সেই অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ঠিকই বলেছিলাম।’ তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের নীতির কারণে হাইতিয়ানরা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, মিনেসোটার মতো ওহাইওকেও ‘লুটপাট ও ধ্বংসের’ হাত থেকে রক্ষা করা হবে।

স্প্রিংফিল্ডের বাসিন্দাদের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা তাদের শহর ফিরে পাচ্ছেন।’ তার প্রশাসন এমন একটি কর্মসূচি বন্ধ করেছে, যার আওতায় তিন লাখ ৫০ হাজারের বেশি হাইতিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ১৫ হাজার হাইতিয়ান স্প্রিংফিল্ডে বসতি গড়েছেন। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।

সোমালি অভিবাসীদের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি পোশাক কেনার সামর্থ্য নিয়েও বিদ্রূপ করেন তিনি। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা মিনেসোটার সোমালি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটনের বাসায় তল্লাশি চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৮ সালেও হাইতি ও কয়েকটি দেশের অভিবাসীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। তখন তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন নরওয়ের মতো দেশ থেকে আরও বেশি অভিবাসী আনতে পারে না। মন্তব্যটি বর্ণবাদী হিসেবে নিন্দিত হলেও প্রথমে তা অস্বীকার করেছিলেন তিনি। গত বছর অবশ্য ওই শব্দবন্ধ ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন।

ট্রাম্পের এবারের ওহাইও সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি ১১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তবে ইরান যুদ্ধ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। সিনেট নির্বাচনে জন হাসটেডের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন। এ ছাড়া গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

হাসটেড ২০২৪ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে যাওয়া সিনেট আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এবার আসনটি ধরে রাখতে তাকে ব্রাউনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ব্রাউন দীর্ঘদিন সিনেটর ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান বার্নি মোরেনোর কাছে পরাজিত হন।

সমাবেশে ট্রাম্প রাজনৈতিক মিত্রদের পক্ষে প্রচারের পাশাপাশি ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডের কাছে সাবমেরিনের যন্ত্রাংশ তৈরির একটি নতুন কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদনের বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি।

এদিকে, সিনেট নির্বাচনে ব্রাউনকে দুর্বল করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী গ্রেগ লেভির পক্ষে প্রচারপত্র ছড়ানো শুরু হয়েছে। ‘এনাফ প্রমিসেস ওহাইও পিএসি’ নামের একটি সংগঠনের অর্থায়নে পাঠানো এসব প্রচারপত্রে ‘বিপ্লবে যোগ দিন’ এবং ‘একজন শ্রমজীবী মানুষকে সিনেটে পাঠান’ ধরনের স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। লেভি নিজেকে সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন এবং ২০২৬ সালে ওহাইও থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে লেভি এসব প্রচারপত্রের সমালোচনা করে বলেছেন, তার প্রচারাভিযানের পরিচয় ব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বিষয়টিকে ‘অসৎ কৌশল’ আখ্যা দিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং ওহাইওসহ পুরো দেশের ভোটারদের প্রতি অবিচার।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এনাফ প্রমিসেস ওহাইও ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি এখনো অর্থদাতাদের নাম প্রকাশে বাধ্য হয়নি। তবে সরকারি নথিতে রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদদের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে সংগঠনটি ‘সেভেন ফার্মস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারপত্র ছাপানো, ডাকযোগে পাঠানো ও বিতরণের জন্য দুই দফায় তিন লাখ ৯৭ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দক্ষিণ ক্যারোলাইনার এমন একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ে, যেখানে ‘হুইসেলস্টপ স্ট্র্যাটেজিস এলএলসি’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও রয়েছে।

হুইসেলস্টপ পরিচালিত হয় ‘বিগ ডগ স্ট্র্যাটেজিস এলএলসি’ নামের একটি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পের সমর্থক সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (সুপার পিএসি) ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’-কে পরামর্শ দেয়। ২০২৪ সালে বার্নি মোরেনোর নির্বাচনী প্রচারেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করেছিল।

এনাফ প্রমিসেস ওহাইও এবং বিগ ডগ স্ট্র্যাটেজিসের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা সাড়া দেয়নি।