News update
  • ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪     |     
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
মোহাম্মদ মামুন কবীর প্রথম পাতা 2026-11-08, 12:14am

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব

amal-16b5480e7b6e68607fe48815d16b5d6d1794075279.jpg


তাহাজ্জুদ নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। রাতের নির্জনতা ও নীরবতায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ঘুম থেকে উঠে এই নামাজ আদায় করা হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তাহাজ্জুদ নামাজের বিশেষ মর্যাদা ও অসংখ্য ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভ, গুনাহ মাফ এবং দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম।

আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ ইবাদত

তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করতে পারে। দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের নির্জনতায় ঘুম ত্যাগ করে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো বান্দার আন্তরিকতা ও ভালোবাসার প্রকাশ।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, 'আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো। এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।' (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭৯)

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়া ও ইস্তিগফারের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সময়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?' (সহিহ বুখারী, হাদিস: ১১৪৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৫৮)

এই সময়ে তাহাজ্জুদ আদায় করে নিজের প্রয়োজন, বিপদ-আপদ, পরিবার ও জীবনের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

গুনাহ মাফের মাধ্যম

তাহাজ্জুদ নামাজের অন্যতম শিক্ষা হলো আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া। রাতের শেষ ভাগে ইস্তিগফার করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, 'তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত এবং রাতের শেষ ভাগে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।' (সুরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ১৭-১৮)

জান্নাত লাভের পথ সুগম করে

তাহাজ্জুদসহ রাতের ইবাদত মানুষের মধ্যে তাকওয়া, ধৈর্য ও আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'হে মানুষ! তোমরা সালামের প্রচলন করো, খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে নামাজ আদায় করো। তাহলে শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫)

মুমিনের মর্যাদা বৃদ্ধি করে

রাতের ইবাদত একজন মুমিনের আত্মিক উন্নতি ও চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আল্লাহর কাছে যারা নিজেদের সোপর্দ করে, তাদের প্রশংসা করে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, 'তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের রবকে ডাকে ভয় ও আশা নিয়ে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।' (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ১৬)

মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক শক্তি অর্জন

রাতের নির্জনতায় নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বাড়ায়। দুশ্চিন্তা, হতাশা ও বিপদের সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমে মুমিন মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পায়।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। তবে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে উঠে রাতের শেষ ভাগে আদায় করা উত্তম।

  • রাকাত: সর্বনিম্ন ২ রাকাত। সামর্থ্য অনুযায়ী ৪, ৬, ৮ বা আরও বেশি পড়া যায়।

  • নিয়ত: মনে মনে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের সংকল্প করলেই যথেষ্ট।

  • পদ্ধতি: প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ আদায় করা উত্তম।

  • কিরাত: সুরা ফাতিহার পর পবিত্র কোরআনের যেকোনো সুরা পড়া যায়।

  • দোয়া: নামাজ শেষে নিজের গুনাহ মাফ, রিজিক, সুস্থতা, পরিবার ও দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা যায়।

তাহাজ্জুদের জন্য কীভাবে অভ্যাস গড়ে তুলবেন?

  • রাতে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  • ফজরের আজানের অন্তত ৩০-৪০ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠুন।
  • প্রথম দিকে মাত্র দুই রাকাত দিয়ে শুরু করুন।
  • নামাজ শেষে মনোযোগ দিয়ে ইস্তিগফার ও দোয়া করুন।
  • নিয়মিত আদায়ের চেষ্টা করুন। কোনো দিন না পারলে হতাশ হবেন না।

তাহাজ্জুদ শুধু একটি নফল নামাজ নয়, এটি মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার একান্ত সম্পর্ক গড়ে তোলার বিশেষ সুযোগ। যখন পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন একজন মুমিন নিজের রবের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দুঃখ, কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া ও ভুলের কথা তুলে ধরে।

জীবনের যত সমস্যা, হতাশা ও অপূর্ণতা থাকুক না কেন, আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া উচিত নয়। নিয়মিত দুই রাকাত তাহাজ্জুদ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। কারণ, আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে চাওয়া কোনো দোয়া কখনোই বৃথা যায় না। তবে দোয়া কবুলের ধরন ও সময় আল্লাহর হিকমতের ওপর নির্ভরশীল।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।