News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-10-16, 6:45am

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

yeaman-ho-d5338717fb6003fd1762bc795553504c1792111551.jpg


ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবারের এ হামলায় অন্তত দুই প্রাসাদরক্ষী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ তুলেছে দেশটিতে অভিযান পরিচালনাকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সদর দপ্তর আল-মাশিক প্রাসাদে চলমান সংঘাতের মধ্যে এটিই প্রথম হামলা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। হামলার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, এডেনে সৌদি সামরিক বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে হুতিদের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিরা অন্তত ২০টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জোটটি।

জোটের দাবি, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আবহা বিমানবন্দরেও হামলায় তিনজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দর, বন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

আল-মালিকি আরও অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষের সহায়তায় হুতিরা উন্নত সামরিক প্রযুক্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগতির নৌযান রয়েছে বলে দাবি তার।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের পার্বত্য এলাকায় হুতিদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হুতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

সংঘাতের বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগ

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ গত মাসে নতুন করে তীব্র হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় লড়াই বাড়ায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।

২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাতের বর্তমান অধ্যায়ের সূচনা হয়। পরের বছর হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চলতি বছর আবার সংঘর্ষ বেড়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধিও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন পরিচালিত হয়।

এদিকে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর, উড়োজাহাজ ও বিমান চলাচল অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার পরিচালনা পরিষদ।

সংঘাতের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নৌ ও বিমান চলাচল আরও ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।