
হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা আল পাচিনোকে আজীবন সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন এসএজি-এএফটিআরএ। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চে ছয় দশকের বেশি সময়ের অবদান এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৩৩তম অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে আল পাচিনোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে নেটফ্লিক্স।
৮৬ বছর বয়সী আল পাচিনো এ পুরস্কারের ৬২তম প্রাপক। এর মাধ্যমে অভিনয়শিল্পীদের সংগঠনটির সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। অভিনয়ে দীর্ঘ অবদানের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার জন্যও এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
১৯৭২ সালে ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ‘দ্য গডফাদার’ সিনেমায় মাইকেল করলিওনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান পাচিনো। পরে ‘দ্য গডফাদার পার্ট টু’, ‘স্কারফেস’, ‘সারপিকো’ ও ‘ডগ ডে আফটারনুন’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
১৯৯২ সালের ‘সেন্ট অব আ ওম্যান’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ১৯৯৩ সালে সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার জেতেন তিনি। এ ছাড়া দুটি টনি, দুটি প্রাইমটাইম এমি ও একাধিক গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে। ‘দ্য আইরিশম্যান’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০২০ সালে অস্কারে পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতা বিভাগেও মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।
আল পাচিনোর মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মোকাবিলায় প্রচারণায় অংশগ্রহণ, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং স্থানীয় থিয়েটার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানো। এসব অবদানও তাকে সম্মাননা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিয়েছে সংগঠনটি।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আল পাচিনো বলেন, জীবনের বেশির ভাগ সময় নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেও চিত্রনাট্য ও সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার মধ্যেই তিনি স্বস্তি খুঁজে পেয়েছেন। সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করাই তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এসএজি-এএফটিআরএর সভাপতি শন অ্যাস্টিন পাচিনোর অভিনয়শৈলী ও শিল্পীসত্তার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, পাচিনোর অভিনয়ে সাহস, গভীরতা ও আবেগের সমন্বয় রয়েছে, যা বহু প্রজন্মের শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছে।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দেওয়া আল পাচিনোর এই স্বীকৃতি হলিউডে তার প্রভাব ও অবদানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এসএজি-এএফটিআরএ।