News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রথম পাতা 2026-10-16, 7:42am

চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি জোরদারের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

banijja-montri-3e90f1a32669ca169e20ca24d53e80cc1792114956.jpg


আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে পরিবেশবান্ধব চাষ, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা এবং উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। চাষের জমির পরিমাণ বেশি থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় রপ্তানিতে পিছিয়ে থাকায় উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে চিংড়ি খাত নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে চিংড়ি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। গত বছর দেশের হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ খাতে আরও বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৫০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের চিংড়ি রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের জমির পরিমাণ ভারতের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি হলেও রপ্তানি আয়ে দেশটি পিছিয়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মান উন্নয়ন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতারা এখন শুধু পণ্যের গুণগত মান দেখেন না। উৎপাদনে নিয়োজিত শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, তাদের অধিকার এবং চাষের ক্ষেত্রে পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন তারা।

এ কারণে প্রচলিত কাগজপত্রনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির প্রতিটি ধাপের তথ্য সংরক্ষণ এবং যাচাইয়ের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে এবং উন্নত বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ গঠন করেছে। শ্রম অধিকারসহ দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি কৌশল তৈরির কাজও চলছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাংলাদেশের চিংড়ির বৃহত্তম বাজার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ (এফটিএ) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক গভীর করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

চিংড়ি শিল্পের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে যুক্ত মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। চিংড়িচাষি, ডিপো কর্মী, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার শ্রমিক ও রপ্তানিকারকদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য প্রতিষ্ঠান টোটালফুড প্রসেসিং (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশাল ক্রেয়জা। সমাপনী বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনন।

সংলাপে আলোচকরা বলেন, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব, দায়িত্বশীল ও টেকসই করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদনের মান, শ্রমিকের অধিকার এবং পণ্যের উৎস শনাক্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়িকে উন্নতমানের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বাড়বে।