
সব বাধা অতিক্রম করে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বরের এ সভায় প্রবাসীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনজীবী ড. সিরাজুল হক।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অষ্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গামা আবদুল কাদের, মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা হক, অষ্ট্রেলিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিলকিস জাহান, কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদ রহমান প্রমুখ।
ড. সিরাজুল হক বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকেই তিনি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রবাসীদের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।
এ বিশেষ সভায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সময় যেভাবে দুই বোন প্রবাসে থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তী দীর্ঘ নির্বাসনে একে অপরের শক্তি হয়েছিলেন, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতেও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। দিল্লির নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রবাসী সমর্থকদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে শেখ রেহানা তার বড় বোনের প্রধান মানসিক শক্তি ও সহায়ক হিসেবে পাশে রয়েছেন।
৩০ সেপ্টেম্বরের এ সভায় প্রবাসীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনজীবী ড. সিরাজুল হক।
সভায় সিরাজুল হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব ও কর্মীদের ওপর হওয়া মামলা এবং আইনি জটিলতাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি কৌশল তুলে ধরেন।
তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসী বাঙালিরা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ঐক্যবদ্ধ থেকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়ে যাবেন।
সভায় শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করেন এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি দলের ওপর থেকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং সব বাধা অতিক্রম করে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার দৃঢ় ইচ্ছা ও প্রত্যয় প্রকাশ করেন।
এ সময়ে শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দুই কোটি আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা কর্মীদের বাড়ি ঘর লুটপাট ও ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। দশ হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন গত দুই বছরে। কারাগারে আটক বন্দীদের হত্যা করা হচ্ছে। আরো হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে। দুই হাজার পুলিশ হত্যা করা হয়েছে। তাদের বিচার করা হবে। দেশের জনগণ বড়ই কঠিন সময় পার করছেন। তাই আমি আমার জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে চাই। দেশের জনগণ ও দেশ রক্ষার জন্যই আজকে আমাকে ফেরত যেতে হবে।
নয়াদিল্লির এই বিশেষ সভায় প্রবাসীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শেখ হাসিনার জোরালো বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রবাসীদের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াই ও আন্তর্জাতিক জনমত গঠন আগামী দিনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনে কতটুকু ভূমিকা রাখবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।