News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
বঙ্গলোক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-10-22, 7:53am

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে আগে জানত না দূতাবাস

probas-ksa-d74996a4c7b4465f19d4b1f89e0d6e5a1792634024.jpg


সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে পৃথক অভিযোগে দেশটির কারাগারে আটক ছিলেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানত না জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানায়নি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের একটি গোপনীয় নথিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নথিটি পাঠানো হয়।

নথিতে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা ব্যভিচারের অভিযোগে সৌদি আরবে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের কোনো নজির কনস্যুলেটের কাছে নেই। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কিছু জানায়নি। পরেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।

তবে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেটকে দেয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, পশ্চিম সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য জানতে এর আগে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া একটি তালিকায় নজরুল ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। তবে ওই তালিকায় তাঁদের সাজা সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না।

তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক হন। পরদিন ২ আগস্ট ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটি আক্তারকে। নজরুলকে জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটিকে জেদ্দার নারী কারাগারে রাখা হয়েছিল।

তাঁরা দুজনই আল-মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পশ্চিম সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন বলেও নথিতে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে কনস্যুলেটে যোগাযোগ করা হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও তাঁদের সাজা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কনস্যুলেটকে অবহিত করেনি।

এদিকে, এ ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য বা অতীতের ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে বলেও সতর্ক করেছে কনস্যুলেট।

নথি অনুযায়ী, মামলার রায়ের অনুলিপি ও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার পর এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।