
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে কার্যক্রম জোরদার করতে নতুন সমঝোতায় পৌঁছেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ রয়ে গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন কপ-১৭-এর দুই সপ্তাহের আলোচনা শেষে দেশগুলো এ সমঝোতায় পৌঁছায়। নতুন এ কর্মপরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইয়েরেভান পাথওয়ে’।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য রক্ষার বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তে ক্ষতিকর ভর্তুকি কমানো, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানো এবং জাতীয় বাজেট ও ব্যয়ের সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্য সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালে কানাডার মন্ট্রিয়লে গৃহীত বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের স্থলভাগ, অভ্যন্তরীণ জলাশয়, সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্রের ৩০ শতাংশ পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জীববৈচিত্র্য সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও মূল্যায়ন করা দেশগুলোর অর্ধেকেরও কম নির্ধারিত লক্ষ্যের পথে রয়েছে।
সম্মেলনে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন ভর্তুকি ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলার কমানোর প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হয়েছে দেশগুলো। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ী অর্থায়নব্যবস্থা গড়ে তোলার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বিদ্যমান অর্থায়নব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলন আয়োজকদের তথ্যমতে, বিভিন্ন সরকার, দাতব্য সংস্থা ও বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রকৃতি সংরক্ষণে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি নতুন অর্থায়নের ঘোষণা এসেছে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠন ও প্রতিনিধিরা বলছেন, বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই অর্থ যথেষ্ট নয়।
ফাইন্যান্স ফর বায়োডাইভারসিটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনিতা দে হোর্দে বলেন, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও কপ-১৭ প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রগতি সম্ভব। তবে সম্মেলনের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে পরবর্তী সম্মেলনের আগে দেশগুলো সিদ্ধান্তগুলো কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।
সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০২৮ সালে ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে অনুষ্ঠিত হবে জীববৈচিত্র্যবিষয়ক পরবর্তী সম্মেলন কপ-১৮।