
অস্ট্রেলিয়ায় সেপ্টেম্বরে পারিবারিক ব্যয় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির পরিবারের ভোগব্যয় আগের মাসের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে ৮২.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেশি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনোদন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ব্যয়ের হিসাবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এবিএস) তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে পারিবারিক ব্যয় ০.৬ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়েছে তার চেয়ে তিন গুণ। আগস্টে পারিবারিক ব্যয় ০.১ শতাংশ কমেছিল। সেই পতনের পর সেপ্টেম্বরে আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে দেশটির ভোগব্যয়।
বার্ষিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে দেশটির পারিবারিক ব্যয় বেড়েছে ৬.৮ শতাংশ। উচ্চ ঋণ গ্রহণ ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচের চাপের মধ্যেও ভোক্তাদের ব্যয়ের এই প্রবৃদ্ধি অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে পারিবারিক চাহিদার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। পেট্রলের জন্য আগের তুলনায় বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বড় ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিমান ভ্রমণের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও ভ্রমণ খাতের ব্যয়ে। বিশেষ করে তৃতীয় প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয়ের পরও প্রকৃত পারিবারিক ব্যয় বেড়েছে ০.৭ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিমান ভ্রমণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পারিবারিক ব্যয়ের এই প্রবৃদ্ধি ভোক্তাদের চাহিদা এখনো শক্তিশালী থাকার ইঙ্গিত দেয়। তবে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ঋণের খরচ বৃদ্ধির কারণে পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ অব্যাহত রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে সেপ্টেম্বরে পারিবারিক ব্যয়ের পুনরুদ্ধার অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিলেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।