News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-11-04, 7:18am

জর্জিয়ায় সিনেট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওসফ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই তুঙ্গে

us-vote-b28e93f189cfe9ac9dace14e2b36d0f91793755127.jpg


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জন ওসফ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর হওয়ার পথ নিশ্চিত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে তার জয়ের বিষয়টি উঠে আসে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জর্জিয়ার এই নির্বাচনকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কারণ, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটিতে ট্রাম্প প্রায় ২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এমন একটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট সিনেটরের আসন ধরে রাখা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অন্যদিকে, সাবেক কলেজ ফুটবল কোচ ডেরেক ডুলিকে সমর্থন করেছিলেন জর্জিয়ার বিদায়ী রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান কেম্প। তবে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচন ও রানঅফের লড়াই পেরিয়ে কলিন্স রিপাবলিকান মনোনয়ন পান।

নির্বাচনী প্রচারে অর্থ সংগ্রহেও ওসফ এগিয়ে ছিলেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কলিন্সের তুলনায় তিনি ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার বেশি সংগ্রহ করেন। কলিন্সের পক্ষে বিভিন্ন বাইরের সংগঠন থেকেও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়।

৩৯ বছর বয়সী ওসফকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবেও আলোচনা করা হচ্ছে। তবে তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় জর্জিয়ায় সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণেই থাকল।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠিন সমীকরণ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল লড়াই হচ্ছে কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে।

এ জন্য জর্জিয়া ও মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যে নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি মেইন ও নর্থ ক্যারোলাইনার মতো রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যে জয় পাওয়া জরুরি। পাশাপাশি ২০২৪ সালে ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন এমন আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের আসন অর্জন করতে হবে।

অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির সম্ভাবনা উঠে এলেও সিনেটের লড়াই ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে

নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কর্মকাণ্ডের ওপর জনমত যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনী প্রচারে বড় জায়গা করে নেয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষে পরিচালিত এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট। এ ছাড়া ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর ভারসাম্য ও নজরদারি নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে দুই ডজনের বেশি সমাবেশে অংশ নেন। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেই ভোট দিতে।

এদিকে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় এক হাজার পর্যবেক্ষক ও মনিটর নিয়োগ দেয়। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

আলাস্কার সিনেট নির্বাচন ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী ড্যান সুলিভানের সঙ্গে একই নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তবে নির্বাচনের ফল প্রত্যয়ন আটকে দেওয়ার জন্য করা প্রশাসনের একটি আইনি উদ্যোগ আদালত খারিজ করে দেন।

সব মিলিয়ে জর্জিয়ায় ওসফের জয় ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখল। তবে কংগ্রেসের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোর ফল এবং প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোর হিসাবই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স।