
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার প্রয়োজন কমতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে বুধবার এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ০০টা ২৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯৩৪ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসের সরবরাহ চুক্তির স্বর্ণের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৪৩ দশমিক ২০ ডলারে ওঠে।
তেলের দরপতনে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। এতে প্রায় চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে তেলের দর। ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা এবং সংঘাতের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা, দুই বিষয়ই তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
রাশিয়ার ক্রেমলিন জানিয়েছে, আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে এখনো সমঝোতা অনেক দূরে বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমাতে উদ্যোগ জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কমলে মূল্যস্ফীতির চাপও কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে ফেডারেল রিজার্ভকে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে নাও হতে পারে। সুদের হার কমার প্রত্যাশা স্বর্ণের বাজারকে সহায়তা করে। কারণ, স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার কমলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে।
ফেডের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি শ্রমবাজারের নতুন তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের প্রায় ৭৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। সুদের হার নিয়ে এমন প্রত্যাশা স্বর্ণের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা ঘিরেও বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। নির্বাচনের ফলাফল দেশটির অর্থনৈতিক নীতি ও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কমার পূর্বাভাস
এদিকে, উচ্চমূল্যের কারণে ভারতে চলতি বছর স্বর্ণের চাহিদা ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)। সংস্থাটির মতে, স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় গয়না কেনার প্রবণতা কমছে। পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগের চাহিদাও কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে বুধবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৯ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমেছে। বিপরীতে প্লাটিনামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪২২ দশমিক ১৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৯৩৮ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে এখন জ্বালানি তেলের মূল্য, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের পরিস্থিতি, ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: রয়টার্স।