
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জিএম কাদের বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে বর্তমান বেতন কাঠামোয় শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা ও রান্নার জ্বালানির ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়ে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। আন্দোলন দমনে শ্রমিকসহ আশপাশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে শারীরিক নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানান জিএম কাদের। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেন তিনি। শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জিএম কাদের বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অভাব, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বন্দরগুলোর অব্যবস্থাপনাও মালিকদের সংকট বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব ও ভোগ্যপণ্যের বাজার সংকুচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বাড়তি মজুরির ব্যয় বহন করে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা মালিকদের জন্য কঠিন হতে পারে।
তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে নগদ অর্থসহায়তা অথবা রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি শ্রমিকদের কাছে ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের পরামর্শ দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এ সহায়তা মালিকদের মাধ্যমে অথবা সরাসরি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।