News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
বঙ্গলোক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-11-05, 8:45pm

ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, ‘মৃত্যু হলেও নিজের মাটিতে’

s-h-3b9eea71e523d71386e5530a48b872481793889953.jpg


ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। দেশে ফিরলে গ্রেফতার, কারাবাস, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।

বুধবার (৫ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ই-মেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মৃত্যু যদি আমার নিয়তি হয়, তাহলে আমি নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মধ্যে মরতে চাই। তাই আমি বাংলাদেশে ফিরব। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার দায়ে এ রায় দেওয়া হয়। তবে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। এদিকে বাংলাদেশ একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানালেও নয়াদিল্লি তাকে হস্তান্তর করেনি।

এপিকে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, কারাগারে নেওয়া হতে পারে, নির্যাতন এমনকি হত্যা করা হতে পারে। এসব আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি সচেতন। তবে দূর থেকে নিজের দেশের মানুষকে কষ্ট পেতে দেখে বাকি জীবন কাটাতে চান না।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা। তার ক্ষমতাচ্যুতির পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন তারেক রহমান। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার সময় তার দল আওয়ামী লীগও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন, কেউ কেউ দেশ ছেড়ে গেছেন।

শেখ হাসিনার দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার, নির্যাতন ও আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক সমর্থক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার সুযোগ হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে সরকার বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

দেশে ফেরার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো দেশগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন কি না, এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, নিজের দেশে ফিরতে কোনো বিদেশি শক্তির আশীর্বাদ প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের বক্তব্য জানতে চাইলেও এপিকে কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)