News update
  • মিরপুরে বাসে অগ্নিকাণ্ডের চেষ্টা, চালক-সহকারীর তৎপরতায় এড়ালো বড় দুর্ঘটনা     |     
  • পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে ৬ জন নিহত, আহত ১৫     |     
  • ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪     |     
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
Bangolok Desk জাতীয় 2026-10-25, 12:45am

গাজীপুরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান ও বিআরটি প্রকল্পের স্বচ্ছ মূল্যায়নের দাবি

brta-8-1792850939-09c468384b0d4beaeb58d5cfed2634461792867547.jpeg

ছবি- সংগৃহীত


গাজীপুরে যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। একই সঙ্গে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়ন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গাজীপুর জার্নালিস্ট ফোরামের উদ্যোগে ‘দৃশ্যমান সমস্যা ও অফুরান সম্ভাবনার গাজীপুর’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন। ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আয়ুবি, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশিতা, জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং জিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খান। প্রবন্ধে বলা হয়, শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত কারখানার কারণে গাজীপুরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কারখানাগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে গাজীপুরের পরিবেশ রক্ষা করার কথা বলা হয়। এছাড়া যানজট, মাদক, কিশোর গ্যাং, রাস্তায় বর্জ্য ফেলা, ছিনতাই, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, রেলওয়ে স্টেশনগুলোর নিষ্ক্রিয়তা, বনভূমি দখল এবং কৃষিজমি ভরাটসহ গাজীপুরের নানা সমস্যা তুলে ধরা হয়।

মূল প্রবন্ধে বিআরটি প্রকল্পের জন্য নির্মিত বিভিন্ন অবকাঠামোতে অপরাধমূলক কার্যক্রম, সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা এবং শ্রীপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের আবাসন ও নিরাপদ যাতায়াতের সংকটের বিষয়গুলোও উঠে আসে। এছাড়া শ্রীপুরের সাতখামাইর ও ইজ্জতপুর রেলস্টেশন সচল করা এবং প্রয়োজনীয় ট্রেন যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

কালিয়াকৈরে বনভূমি দখল এবং কালগঞ্জে আবাসন প্রকল্পের নামে কৃষিজমি, খাল, বিল ও অন্যান্য জলাভূমি ভরাটের বিষয়েও প্রবন্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিআরটি নিয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়নের সুপারিশ

বিআরটি প্রকল্প বাতিল ও বিদ্যমান অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে একটি স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে মূল প্রবন্ধে। গাজীপুরের মানুষের ১৪ বছরের দীর্ঘ দুর্ভোগ এবং ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনা করে একটি দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিআরটি চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্প বাতিলের কারণ ও এর পেছনের যুক্তি জনসমক্ষে স্পষ্ট করা, কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা পরিকল্পনা ত্রুটি থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সুপারিশ করা হয়। যেহেতু বিআরটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, তাই গাজীপুর থেকে একটি সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। এজন্য ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়।

সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, “বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানকার মানুষ গাজীপুরে বাস করেন না। এই জনবহুল জেলার উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যাকে বিবেচনায় নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা জরুরি। বিআরটি প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে বিষয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিআরটি চালু থাকলেও গাজীপুরের মতো জনবহুল এলাকায় পরিকল্পনা করার সময় স্থানীয় বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশ যদি শুরু থেকেই সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তবে মাদকের আগ্রাসন কমানো সম্ভব।

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, “গাজীপুরের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরিবেশ রক্ষা করে এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়নি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই জেলায় বসবাস করেন। তাই আগামী ১০০ বছরকে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তা না হলে এই এলাকা এক দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।”

গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান বলেন, যানজট নিরসনের জন্যই বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তবে এতে সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। তাঁর মতে, উত্তরা থেকে কালিয়াকড়, ময়মনসিংহ ও জয়দেবপুর সংযোগের জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলে যান চলাচল সহজ হতো। রাস্তার মাঝখানের ডিভাইডারের কারণে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিযুক্ত ক্যামেরা ব্যবহারের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি মাদক রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আয়ুবি বলেন, বিআরটি প্রকল্পের পরিবর্তে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। মাদক নির্মূলে পুলিশ সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি গাজীপুরে বাসভাড়া কমানো এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জানান। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কাপাসিয়া পৌরসভা গঠনের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, দপ্তর সম্পাদক এস এম নূর মোহাম্মদ, যোগাযোগ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র সদস্য মনজুর বারি এবং নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম শুভ।