
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দল থেকে সরাসরি বহিষ্কারের বিষয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর হুঁশিয়ারিকে অত্যন্ত দূরদর্শী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও বৈরী পরিস্থিতি উত্তরণে অতীতের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে রাজপথে জাতীয় পার্টির পাশে দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ ও যুগপৎ আন্দোলনে নামার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ রাজনৈতিক পর্যালোচনায় এই নতুন সমীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে নীতির প্রতি অবিচল থাকা সমসাময়িক রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় দলটির নেতা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীও এক সম্মেলনে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দলের কোনো নেতাকর্মী আপত্তি তুললে বা অবস্থান নিলে তাঁকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হবে।
দলটির এমন সুস্পষ্ট ও ইতিবাচক রাজনৈতিক অবস্থানকে স্বাগত জানান বিশ্লেষক।
পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী রাজনীতির হিসাব মেলাতে হলে মাঠের জোটের সমীকরণ আগেই চূড়ান্ত করা অপরিহার্য। সামনের দিনগুলোতে রাজপথের কঠোর আন্দোলন, সংঘাতময় পরিস্থিতি ও আইনি সংকট মোকাবেলায় জাতীয় পার্টিকে একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও কার্যকর মিত্র শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এমনকি এই মুহূর্তে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতির অত্যন্ত চমৎকার ও সুদৃঢ় বোঝাপড়া রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এতে তৃণমূলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কৌশলগত কারণেই এখন নিজেদের মধ্যকার অহমিকা বা দূরত্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। জাতীয় পার্টি যেখানেই রাজপথে দাঁড়াবে, সেখানেই তাদের সমর্থনে পাশে দাঁড়ানোকে সময়ের বড় দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আপাতদৃষ্টিতে জমায়েতের আকার যা-ই মনে হোক না কেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণে তাদের পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া সংকট থেকে মুক্তির কোনো ভিন্ন বিকল্প পথ নেই বলেও অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তা দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার লড়াই ও বিরোধী জোটের রূপরেখা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।