
তীব্র গরম ও বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে শরীয়তপুর জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল—জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় ছাড়াই ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছেন।
জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনে কয়েকবার এবং রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। অনেক এলাকায় পানির পাম্প বন্ধ থাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
জাজিরা উপজেলার এক বাসিন্দা বলেন, “দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতে ঘুমানোই দায় হয়ে পড়েছে। ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দোকানপাট ও ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নির্ভর ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার কারণে কিছু এলাকায় লোড ম্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলার সচেতন নাগরিকরা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং লোডশেডিং কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।