News update
  • জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য মৃণাল কৃষ্ণ রায় আর নেই     |     
  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহেশখালীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন     |     
  • বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৫তম     |     
  • হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ইরানের ছয় শর্ত     |     
  • দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী     |     
বঙ্গলোক রিপোর্ট খবর 2026-07-31, 10:25pm

হবিগঞ্জে ‘হোমিওপ্যাথিক তরল’ পানে ৫ জনের মৃত্যু, রহস্য খুঁজছে পুলিশ

স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য

lqakhai-4d57dec74bc556ea588bb36dd5a7767a1785515139.jpg


হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ‘হোমিওপ্যাথিক অ্যালকোহলজাতীয় তরল’ পান করার পর স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে ওই তরল পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, দুজন নিজ বাড়িতে এবং একজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বলে জানা গেছে।


ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই তরল পান করেই তাদের মৃত্যু হয়েছে কি না, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।


মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের সুজিত দাস (৩৫), একই গ্রামের সুদেব দাস (৬০), ভাদিকাড়া গ্রামের নন্দলাল রবিদাস (৫২), তার স্ত্রী সুবি রবিদাস (৪০) এবং হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার এলাকার রঞ্জিত কুড়ি (৩৬)।


স্থানীয় সূত্রে যা জানা গেছে


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত ব্যক্তিরা লাখাই উপজেলার মোড়াকরি বাজারে অবস্থিত ‘হ্যানিম্যান হোমিও হল’ থেকে অ্যালকোহলজাতীয় একটি তরল কিনে নিয়মিত সেবন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে তারা ওই তরল পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের কেউ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ নিজ বাড়িতেই চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেন।


এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার একে একে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। তবে ওই তরলেই বিষাক্ত কোনো উপাদান ছিল কি না বা সেটি পান করার কারণেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


যেভাবে মৃত্যু হয়


নিহতদের মধ্যে সুজিত দাসকে অসুস্থ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়।


সুদেব দাসকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।


অন্যদিকে রঞ্জিত কুড়ির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়।


নন্দলাল রবিদাস ও তার স্ত্রী সুবি রবিদাস নিজ গ্রামেই মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


কয়েকজনের মরদেহ দাহ, একজনের ময়নাতদন্ত


পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। তবে নিহতদের কয়েকজনের মরদেহ পুলিশকে না জানিয়েই দাহ করা হয়েছে। ফলে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ময়নাতদন্তের সুযোগ পাওয়া যায়নি।


এ অবস্থায় সুদেব দাসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


পুলিশের তদন্ত শুরু


লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে নিহতদের কয়েকজনের মরদেহ পুলিশকে না জানিয়েই দাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সুদেব দাসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


ওসি শরীফ আহমেদ আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ওই তরল কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটিতে কোনো বিষাক্ত বা ক্ষতিকর উপাদান ছিল কি না, তরলটি পান করার পরই তাদের অসুস্থতা শুরু হয়েছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই মিলবে মৃত্যুর কারণ


হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সুদেব দাসের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব ছিল কি না—ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।


নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ


একই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা যে তরল পান করেছিলেন, সেটি আসলে কী ধরনের পদার্থ ছিল, সেটির উপাদান কী, কোথা থেকে তা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেটি পান করার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।


পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি যে, ওই তরল পান করেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার সময়কাল ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, তরলের নমুনা পরীক্ষা এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফলের ওপরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ভর করবে।


এ ঘটনায় ‘হ্যানিম্যান হোমিও হল’ থেকে ওই তরল বিক্রির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।