
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ বৃহস্পতিবার থেকে জনসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হচ্ছে। আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রদর্শনীর সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই জাদুঘর ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। উদ্বোধনের আগেই আজকের জন্য বরাদ্দ ৯০০টি টিকিট বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।
এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের উদ্বোধন করেন।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের সুবিধা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের প্রবেশ তিনটি সময়সীমা বা স্লটে ভাগ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন। অনলাইনের পাশাপাশি জাদুঘরের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।
প্রতিদিনের প্রবেশসূচি অনুযায়ী, মর্নিং স্লট সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, মিড-ডে স্লট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং ইভিনিং স্লট বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রতিটি স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। টিকিটে উল্লেখিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেবল মূল ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের জন্য আগাম টিকিট বুকিং করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে দর্শনার্থীদের পরবর্তী দিনের খালি স্লট নির্বাচন করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, শুরুতেই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামাল দেওয়া চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই প্রাথমিকভাবে সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থীর জন্য সময়ভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, উদ্বোধনের প্রথম দিন শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
তবে বুধবার উদ্বোধনের দিন টানা বৃষ্টির মধ্যেও অসংখ্য মানুষ জাদুঘরের মূল ফটকের সামনে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গেট না খোলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জুলাইযোদ্ধা, আহত আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একটি অংশ গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে বাইরে অপেক্ষমাণ আরও অনেক দর্শনার্থীও জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এ সময় শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন দর্শনার্থীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে গেট খুলে দেওয়া হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিলম্বের কারণেই উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে জাদুঘরে প্রবেশের সময় কয়েকজন আন্দোলনকারী উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, "কোনো ভাঙচুর করবেন না, কোনো সম্পদের ক্ষতি করবেন না। আমরা ইতিহাস দেখতে এসেছি, দেখে চলে যাব।"