
ছবি: সংগৃহীত
০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৪ এএম
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তবতায় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ও সরবরাহ সংকট একটি অত্যন্ত গুরুতর ও আলোচিত বিষয়। দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর বহুমুখী প্রভাব পড়ছে। দেশে প্রতিদিন প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২,১০০ থেকে ২,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট-এর মধ্যে। এর ফলে দৈনিক ঘাটতি প্রায় ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে গেছে।
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণে গত জুলাইয়ের শেষের দিক থেকে এলএনজি রিগ্যাস বা সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যদিও আংশিক মেরামত ও চালুর প্রক্রিয়া চলছে, তবুও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে।
গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে (যেমন সিরামিক, টেক্সটাইল, স্টিল ও তৈরি পোশাক কারখানা) গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বা কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
বর্তমান সংকট সামাল দিতে সরকার ও পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে, ভারতের পাইপলাইন দিয়ে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
দেশের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলো বিবিয়ানা ও তিতাস দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে বার্ধক্যের মুখে এবং এগুলোর মূল মজুদের বড় অংশই নিঃশেষিত। স্থানীয় উৎপাদন প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে।
অতীতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার বা অফশোরে সাগরে জোরালো অনুসন্ধান ও কূপ খননের চেয়ে আমদানি নির্ভরতার ওপর বেশি জোর দেওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
গ্যাস উৎপাদনের বর্তমান নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে এবং নতুন বড় কোনো আবিষ্কার বা দ্রুত উত্তোলন না বাড়লে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় মজুদের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে