News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-10-13, 9:20am

কার্বন নিঃসরণ কমাতে কপ-৩১ সম্মেলনে সমঝোতার উদ্যোগ ইইউর

corps-74e9af2246b7085ed082dae691a3bcaa1791861600.jpg


বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশগুলোর বিদ্যমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে জোটটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইইউর অভ্যন্তরীণ একটি খসড়া নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর জন্য একটি ‘প্রশমন প্যাকেজ’ বা মিটিগেশন প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় ইইউ। এর মূল লক্ষ্য হবে, দেশগুলোর ঘোষিত জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং নিঃসরণ হ্রাসের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।

খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনায় নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার মেয়াদ ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে ইইউ। ‘মিটিগেশন ওয়ার্ক প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত এই আলোচনাপ্রক্রিয়ার মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক জলবায়ু আলোচনাগুলোতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। বড় উদীয়মান অর্থনীতির দেশ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর আশঙ্কা, কঠোর নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইইউর প্রস্তাবের লক্ষ্য শুধু নতুন প্রতিশ্রুতি ঘোষণা নয়, বরং আগের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করা। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো পদক্ষেপও আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

তবে জলবায়ু অর্থায়নের প্রশ্নে মতপার্থক্য আলোচনায় বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন। এদিকে ইইউর খসড়া নথিতে নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কপ-৩১ সম্মেলনে নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সম্মেলনে দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সমঝোতা হলে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স