
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিকদার (আলী সিকদার) বলেছেন , বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রবাসে আওয়ামী সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে হবে। এই জন্য আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আলী সিকদার দৈনিক বঙ্গলোককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরো বলেন , বর্তমান সময়ে দলের ভেতরের যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ মতভেদ বা দূরত্ব ভুলে সবাইকে এক ছাতার নিচে এসে কাজ করতে হবে। তিনি প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন এবং বলেন যে, নেতাকর্মীদের পারস্পরিক ঐক্যই প্রবাসে সংগঠনের মূল শক্তি। যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অপপ্রচার মোকাবিলায় দলের তৃণমূল সমর্থক থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি ।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় কমিটির সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিডনিতে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বাড়ি ঘর লুটপাট ও ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত করা হচ্ছে। এর আগে আগে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও আলী সিকদারসহ দলের মূল নেতৃত্ব সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় প্রবাসে দলের সাংগঠনিক কাঠামো সুসংহত রাখতে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই । আলী সিকদার আরো বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাস করেন, তারা যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলের কার্যক্রমে ইতিবাচক অবদান রাখেন। প্রবাসে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা এবং দেশের চলমান পরিস্থিতিতে দলের পক্ষে জনমত গঠন করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রবাসে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা কর্মীদের মধ্যে বিরোধ কমাতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা কর্মীদের এক হয়ে কাজ করতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অনেক অবদান রাখছেন বলে দাবি করেন। ২০০০ সালে একজন ছাত্র হিসেবে তিনি অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী জীবন শুরু করেন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা কর্মীদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। এখানে তিনি একজন প্রোপার্টিজ ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নানাভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে পারেন বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা হওয়ায় তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি দলীয় কোন্দলের প্রভাব কমাতে একটি বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগকে অষ্ট্রেলিয়ায় সুসংহত করার আবেদন জানান। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক বাড়ানোর লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে গিয়ে বরণ করতে প্রস্তুত। দেশের জনগণ এখন শুধুই তাকে চান। দেশের জনগণ এখন শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছে। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। দেশের জনগণ বড়ই অভাব অনটনের মধ্যে বসবাস করছেন। দেশ বিদেশে শুধু আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা কর্মীরা নয় সবাই মিলে মিলেমিশে বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
সাক্ষাৎকারে আলী সিকদার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রত্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সব বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতা কর্মীরা শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সুযোগ, দলের রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন । তাঁর মতে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন, জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
আলী সিকদার বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ কমিয়ে দেশ-বিদেশের বাংলাদেশিদের সম্মিলিতভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আবারও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া জোরদার করার আহবান জানান ।