News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-11-05, 8:28pm

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেতা জশুয়া ওংয়ের ১০ বছরের কারাদণ্ড

h-2510c39011c5be704182423e3a695e911793888883.jpg


হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ জশুয়া ওংকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। চীনের আরোপ করা জাতীয় নিরাপত্তা আইনে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ রায় দেওয়া হয়। ৩০ বছর বয়সী এই আন্দোলনকর্মী ২০২০ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। নতুন সাজা ঘোষণার পর তার কারাবাস আরও দীর্ঘ হলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে আদালতে দোষ স্বীকার করেন ওং। তার বিরুদ্ধে নির্বাসিত হংকংয়ের আন্দোলনকর্মী নাথান ল এবং অন্যদের সঙ্গে মিলে ২০২০ সালে চীন ও হংকংয়ের বিরুদ্ধে বিদেশি দেশ, সংস্থা ও ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অবরোধ কিংবা অন্যান্য বৈরী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

হংকংয়ের হাইকোর্টের বিচারক উইলিয়াম ট্যাম রায় ঘোষণার সময় বলেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের ঘটনায় সমাজের নিন্দা প্রকাশ করাও আদালতের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ওংয়ের দোষ স্বীকার, অনুশোচনা এবং কারাগারে শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়গুলো সাজা নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আদালতে নিজের বক্তব্যে ওং বলেন, তিনি কখনো হংকংয়ের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালাননি কিংবা চীনের পতন বা সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানাননি। তার দাবি, একসময় তিনি মনে করেছিলেন, নিজের কর্মকাণ্ড আইনের সীমার মধ্যেই রয়েছে। পরে বুঝতে পেরেছেন, সে ধারণা ভুল ছিল। বিদেশি অর্থায়ন নেওয়া কিংবা বিদেশি রাজনৈতিক পরামর্শক নিয়োগের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

রয়টার্স জানায়, ওংয়ের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনাগুলো ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের জুনে বেইজিং হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে। ২০১৯ সালে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সময় ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। চীনের সরকার বলছে, হংকংয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আইনটি প্রয়োজন ছিল। তবে সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে।

ওংয়ের রাজনৈতিক সক্রিয়তার শুরু কৈশোরে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি ‘স্কলারিজম’ নামে একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হন। চীনের পক্ষে জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সংগঠনটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। ২০১৪ সালে হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী ‘আমব্রেলা মুভমেন্টে’ নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর।

ওই আন্দোলনে হংকংয়ের নির্বাচনী ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও মরিচের গুঁড়ার স্প্রে থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করায় আন্দোলনটি ‘আমব্রেলা মুভমেন্ট’ নামে পরিচিতি পায়। আন্দোলনের সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ৭৯ দিন অবরুদ্ধ ছিল। ২০১৪ সালে টাইম সাময়িকীর প্রচ্ছদেও স্থান পান ওং।

পরবর্তী সময়ে নাথান লসহ কয়েকজন তরুণ আন্দোলনকর্মীকে নিয়ে তিনি ‘ডেমোসিস্টো’ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। দলটি হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কাজ করত। বিদেশে রাজনৈতিক সমর্থন আদায় এবং হংকংয়ের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন রাজনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেন ওং। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বেইজিংয়ের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

চীনা কর্তৃপক্ষ ওংয়ের কর্মকাণ্ডকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ হিসেবে দেখেছে। অন্যদিকে তার সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি বারবার বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

এর আগে ২০২০ সালের অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওংকে চার বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সাজা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে। নতুন মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি আগের সাজা চলমান থাকায় তার মুক্তির সময় আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন সাজা আগের কারাদণ্ডের অবশিষ্ট সময়ের সঙ্গে একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওংয়ের নতুন সাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও কয়েকটি দেশের উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হংকং কনস্যুলেট রায়ের নিন্দা জানিয়ে তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে চীন হংকংয়ের বিচারিক বিষয়ে বিদেশি পক্ষগুলোর মন্তব্যকে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও বিচারব্যবস্থার প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছে।

হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকরের পর গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা ও কর্মী গ্রেপ্তার এবং কারাদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। গণতান্ত্রিক অধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিচারিক স্বাধীনতা নিয়ে চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান মতপার্থক্যের মধ্যেই জশুয়া ওংয়ের এ রায় নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।