
জামালপুরের মেলান্দহে নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকের চাপায় আট মাসের শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন এবং এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের বৈঠামারী বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।
নিহতরা হলেন, ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী গ্রামের মোরশেদ আলম (২৫), তার স্ত্রী ইকরামা বেগম (২৩) ও তাদের আট মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফা। অপর নিহত ব্যক্তি মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামের শওকত আলী লিখন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে জামালপুরগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক প্রথমে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী শওকত আলী লিখন গুরুতর আহত হন। এরপর ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়। পরে মোটরসাইকেল আরোহীও মারা যান।
দুর্ঘটনার পর মেলান্দহ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করেন। নিহতদের মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত শওকত আলী লিখনের ভাই হেলাল উদ্দিন আকন্দ জানান, সকালে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন লিখন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ট্রাকের চাপায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকাহত স্বজনরা। শনিবার রাত ৯টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মোরশেদ আলমের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে জামালপুর শহরে কেনাকাটা করতে যাচ্ছিলেন তিনি। পথেই ট্রাকের চাপায় পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণ যায়। একসঙ্গে পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।
মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, পরপর দুটি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন চালক। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় ট্রাকটি আটক করা হয়। এ সময় শান্ত নামের চালককেও আটক করা হয়েছে।
মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি এজাহার পাওয়া গেছে। ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।