
ছবি- সংগৃহীত
বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ফিচ রেটিংস সতর্ক করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে। প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে ফিরে আসতে পারেন, যার ফলে দেশের বাহ্যিক তারল্য পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়বে।
২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংশোধিত মূল্যায়নে ফিচ বলেছে, এই সংঘাতে বাংলাদেশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য। কারণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চলতি বাহ্যিক প্রাপ্তির ৩৬ শতাংশ এসেছে রেমিট্যান্স থেকে। ২০২৫ সালে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৬ শতাংশ এসেছে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে।
ফিচ জানিয়েছে, “যদিও এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স ভালোভাবে টিকে আছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শ্রমিকদের ফিরে আসার কারণে এটি কমে যেতে পারে। রেমিট্যান্স কমলে বাহ্যিক তারল্য পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।”
এজেন্সি আরও সতর্ক করেছে যে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেশের বাহ্যিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ আসে অপরিশোধিত তেল থেকে। ফিচের অনুমান অনুযায়ী, ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বার্ষিক তেল আমদানি ব্যয় ১.২ বিলিয়ন ডলার বেড়ে যেতে পারে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ০.২ শতাংশের সমান।
ফিচ বলেছে, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উৎস থেকে অব্যাহত সহায়তা তারল্যের চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এজেন্সি গত মে মাসে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক মুদ্রা ইস্যুয়ার ডিফল্ট রেটিংয়ের আউটলুক স্থিতিশীল থেকে নেগেটিভে পরিবর্তন করেছিল। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত বাহ্যিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে সীমিত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।