News update
  • দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী     |     
  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়বে জামায়াত, রোববার প্রার্থী ঘোষণা     |     
  • তনু হত্যা মামলা: জামিন স্থগিত, ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর     |     
  • বিএসপির মতবিনিময় ও সংবর্ধনা সভায় ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী     |     
  • শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন     |     
বঙ্গলোক রিপোর্ট জাতীয় 2026-08-09, 12:10am

দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

pm-mp-33cbec09e299023a5011e48f03f771411786212612.jpg

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত


দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের সঙ্গে আয়োজিত সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ একটি বড় আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।


তিনি বলেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন, আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।’


মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালন করা উপজেলা নিজের এলাকা না হলেও সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও দেশেরই মানুষ। তাই সবাইকে আপনজন মনে করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।


তিনি বলেন, ‘ছোট একটা দেশ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’


আইন নয়, সচেতনতার মাধ্যমেও সমাধান


শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষকে বোঝানো ও সচেতন করার মাধ্যমেও অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।


এ জন্য নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে ইউএনওদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর আহ্বান


পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দূষণের দিক থেকে দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ উদ্যোগ আরও এগিয়ে নিতে হবে।


তিনি বলেন, অনেক মানুষ নিজের উদ্যোগে গাছ লাগাতে চান। সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন ১০টির বদলে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবেই পরিবেশ রক্ষায় বড় অবদান রাখা সম্ভব।


খেলাধুলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান


খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়।


খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা না করার পরামর্শ দেন তিনি। স্থানীয় বিভিন্ন উপলক্ষেও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।


মানবিক মূল্যবোধ ফেরানোর তাগিদ


সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে। মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর অন্যতম কারণ হতে পারে।


‘এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে, সমাজ ধ্বংস হবে’—উল্লেখ করে তিনি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও দরদ বাড়াতে ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হবে। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে।


এ জন্য স্কুলগুলোতে গিয়ে শিশুদের এসব বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।


খাল খননে সাফল্যের প্রশংসা


বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে শেষ করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন।’


সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খননের ফলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন।


তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।


উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন ইউএনওরা।


সারাদেশে খনন হবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল


উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতার বার্তা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা।


তিনি বলেন, দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।


তিনি বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


সভায় খাল খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩ জন ইউএনওসহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।