
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের সরকারপ্রধানের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ধারাবাহিকতার মধ্যেই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতায় এ শুভকামনা জানালেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তারেক রহমান আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করেন।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য ও শক্তি দান করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এই বিশেষ বন্ধুর প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে তারেক রহমান
দুই দেশের সরকারপ্রধানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল গত ২২ জুন তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর। আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরগুলোর একটি এবং সফরকালে পুত্রজায়ায় দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নিয়েও অগ্রগতি হয়।
সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খোলার বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যায়। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।
আনোয়ার-তারেক বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছিল শ্রমবাজার
মালয়েশিয়া সফরের সময় তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত ও কার্যকরভাবে চালুর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ানো এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। ফলে নতুন করে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলে তা বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সফরকালে দুই দেশের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একাধিক নথি ও সমঝোতা বিনিময় করেন।
এর আগে জুনে পুত্রজায়ায় দুই সরকারপ্রধানের বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে কয়েকটি সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা বিনিময় হয়। সংস্কৃতি, শিক্ষা, শ্রম ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় আনোয়ার ইব্রাহিমের অসুস্থতার খবর পেয়ে তারেক রহমানের দ্রুত আরোগ্য কামনা দুই দেশের সরকারপ্রধানের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত ১০ আগস্ট ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
ফলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনসহ আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন একটি প্রেক্ষাপটেই আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তার বার্তা এলো।