
ছবি- সংগৃহীত
সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০,০০০ টাকা করার দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সহিংস আন্দোলনের মুখে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের ৫০০টিরও বেশি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে এই ব্যাপক অস্থিরতার প্রভাব পড়ে। বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে যানচলাচল স্তব্ধ করে দেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। বিভিন্ন স্থান থেকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে; এর মধ্যে মিরপুরে একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকটি কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও নিরাপত্তা পুনর্বহাল করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিকদের ব্লাকlisting (কালো তালিকাভুক্তকরণ) বন্ধ এবং বরখাস্তকৃত কর্মীদের পুনর্বহালের দাবিতে বিগত কয়েক দিন ধরে চলা চরম অসন্তোষ থেকেই এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার সম্প্রতি শ্রমিকদের বেতন পর্যালোচনার জন্য ছয় সদস্যের একটি নতুন সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিলেও শ্রমিকদের আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা প্রটোকল বা ১৪/১ ধারা অনুযায়ী সাময়িক ছুটি ঘোষণা করে অথবা কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ রাখতে হতে পারে। অন্যদিকে, শ্রমিকের প্রতিনিধিরা কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ না রেখে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি খাত যেন আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত স্বাভাবিক কর্ম পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকারি কর্তৃপক্ষ।