News update
  • তনু হত্যা মামলা: জামিন স্থগিত, ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর     |     
  • জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান:বিএসপির মতবিনিময় ও সংবর্ধনা সভায় ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী     |     
  • শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন     |     
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
জাতীয় 2026-07-29, 8:14pm

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে নয়াদিল্লি

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

ih-95f11b6956a5cd3a7de04c8f2664316e1785334441.jpg


বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সফরটি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে বলে তারা আশাবাদী।


বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তার বক্তব্যে দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে ভারতের আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে।


দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার। তবে আমাদের পক্ষ থেকে বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে ভারতে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই এই সফরটি বাস্তবায়িত হবে।’


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সফরের বিষয়টি মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানোর আগ্রহের কোনো ঘাটতি নেই।


আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্র না হলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের ভারত সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


কূটনৈতিক সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেরও সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


এদিকে, বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এটি ছিল ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সাক্ষাৎ।


সাক্ষাৎ শেষে বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘আজকের মিটিংটা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। আমি মনে করি, এই বৈঠকটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। খুব আন্তরিক পরিবেশে আলোচনাটি সম্পন্ন হয়েছে, কারণ আমাদের মূল লক্ষ্য ও বিষয়গুলো একেবারেই অভিন্ন।’


ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, অভিন্ন স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।


দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই প্রথম বৈঠক হওয়ায় কূটনৈতিক অঙ্গনেও এটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলেও, একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর এবং নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বৈঠকটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।


ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের ভারত সফরের বিষয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহ রয়েছে। এখন সফরের সময়সূচি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।


সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।


সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের ভারত সফরের বিষয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহ এবং ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ—দুই বিষয়কে ঘিরেই এখন কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে সফরটি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে ভারতের প্রত্যাশার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।