
হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর খিলগাঁও ও মুগদা থানায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পূর্বে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। শুনানি শেষে আদালত খিলগাঁও থানায় দায়ের করা হত্যা মামলা এবং মুগদা থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় জারি করা রুল অ্যাবসুলিউট করে তাকে জামিন দেন।
আইনজীবী এম লিটন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুই মামলাতেই হাইকোর্টে জারি করা রুলের নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালতের আদেশের ফলে এসব মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিনের পথ সুগম হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’
গ্রেপ্তারের পর তাকে বিভিন্ন মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানার পাশাপাশি হবিগঞ্জেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অন্যান্য অভিযোগে দায়ের করা মামলাও রয়েছে।
ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আইনজীবী হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বক্তব্য ও কার্যক্রমের কারণে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আদালতে শুনানি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় খিলগাঁও ও মুগদা থানার পৃথক দুই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বুধবার আদালত দুই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্যান্য মামলার আইনি কার্যক্রমের ওপর এই জামিন আদেশের প্রভাব কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।