
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজার সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় লাগা আগুন আট ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। ভবনের ভেতরে ঘন ধোঁয়া, সরু গলি, পানির সংকট ও গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। আগুন পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে দুই ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে প্রথম পাঁচটি ইউনিট। পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান জানান, আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় মোট ১০টি ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও একটি লাইটিং ইউনিটও কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরু রাস্তা ও ভবনের কাঠামোগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজ করতে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান বলেন, ভবনটিতে কসমেটিকস ও ব্যাগের গুদাম রয়েছে। এসব গুদামের একটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগুনে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নেভানোর সময় ধোঁয়ায় দুই ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন।
রাত ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. শাহজাহার জানান, ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিভিন্ন পণ্যের গুদামে আগুন লেগেছে। গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে হচ্ছে। এতে কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভবনের ভেতরে প্রচুর মালামাল থাকায় ঘন ধোঁয়া তৈরি হয়েছে। এতে আগুনের উৎস শনাক্ত করা এবং নির্বাপণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাত সোয়া ১১টার দিকে ধোঁয়া বের করার বিশেষ যন্ত্র স্মোক ইজেক্টর নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দলের সদস্যরা।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় কয়েকজন ফায়ার ফাইটার অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভবনের ভেতরে ধোঁয়ার ঘনত্ব বেশি থাকায় আগুনের কাছাকাছি পৌঁছে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পুরান ঢাকার সরু গলির কারণে বড় অগ্নিনির্বাপণকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারছে না। এর সঙ্গে তীব্র যানজট ও উৎসুক মানুষের ভিড় যুক্ত হয়ে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বাধা তৈরি করছে। পানি সরবরাহেও সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে কর্মীদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভবনটিতে কসমেটিকস, ছাতা, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যের গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে কোটি কোটি টাকার মালামাল মজুত ছিল বলে দাবি তাদের।
আগুন লাগার পর ব্যবসায়ীরা গুদাম থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তার কারণে এবং ঘন ধোঁয়ার কারণে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তদন্তের পর আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ভবনটিতে ব্যাগের কারখানা বা গুদাম ছিল। আশপাশে কাপড়ের গুদামও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্তের প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।