
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে তিন কিশোরী। বাড়ি থেকে বের হওয়ার তিন দিন পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্বজনেরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ কিশোরীদের সন্ধানে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
বুধবার পুলিশ ও নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ তিন কিশোরীর বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তারা সবাই বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একই পাড়ার বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজন চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্য দুজন স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন কিশোরী বাড়ি থেকে চকরিয়ার মানিকপুর এলাকার উদ্দেশে বের হয়। তাদের মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীর বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনার কথা ছিল। তবে তারা নির্ধারিত বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেননি স্বজনেরা।
নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোনো সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার তারা লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজ এক কিশোরীর মা জানান, পরিবারের ধারণা অনুযায়ী, তিনজনের কারও কাছে মুঠোফোন থাকার কথা নয়। তবে তাদের বহনকারী অটোরিকশার চালক জানিয়েছেন, কিশোরীদের কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন দেখেছিলেন তিনি।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে মুঠোফোনসহ তিন কিশোরীকে অবস্থান করতে দেখেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে সেখান থেকে তারা কোন দিকে গেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ কিশোরীরা চকরিয়া অথবা পর্যটন শহর কক্সবাজারের কোথাও থাকতে পারে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নিখোঁজ কিশোরীদের সন্ধানে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।