
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের সামনে এটিই ‘শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ’।
সোমবার (৩ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে তেহরানের কোনো আলোচনা হচ্ছে না। এর বিপরীতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখনই কথা বলছি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে সই করার এটাই শেষ সুযোগ। শিরশ্ছেদের আগে আমি তাদের সম্ভাব্য সবশেষ সুযোগ দিতে চাই।’
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুব শিগগিরই, এমনকি ‘আগামীকালই’ খুলে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে তারা। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচলের জন্য দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার ও ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য রুট নির্ধারণের বিষয়ে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।
তবে এমন সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই।
এদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ‘ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ অবশ্যই হতে হবে।’ তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাকে আরও হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইরানের গণমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—দুই ইস্যুতেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী। এর মধ্যেই ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি এবং ইরানের আলোচনার কথা অস্বীকারের ঘটনায় সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।