
ছবি-সংগৃহীত
মিয়ানমারের আটক গণতান্ত্রিক নেতা অং সান সু চি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, সোমবার তাদের এক প্রতিনিধি সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ পান।
আইসিআরসির এক মুখপাত্র জানান, মিয়ানমারে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি আর্নো দ্য বাক সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই সাক্ষাতে তিনি সু চির সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ পান।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এ নেত্রীকে আটক করে। এরপর দেশটিতে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
অভ্যুত্থানের নেতা ও সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং চলতি বছরের এপ্রিলে কঠোর নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের পর বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ওই নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মিন অং হ্লাইংয়ের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ ছিল এ নির্বাচন।
সাক্ষাতের আগে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ তথ্য জানিয়ে সু চি ও আর্নো দ্য বাকের করমর্দন এবং বৈঠকের দুটি ছবি প্রকাশ করে। আইসিআরসি ছবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করলেও জানায়, সেগুলো তাদের তোলা নয়।
এপ্রিল মাসে সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দিত্বে নেওয়ার পর থেকেই তার জীবিত থাকার স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ চেয়ে আসছিলেন তার ব্রিটিশ নাগরিক ছেলে কিম অ্যারিস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কিম অ্যারিস আইসিআরসির এই সাক্ষাৎকে "একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ" হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে আরও মানবিক সহায়তার সুযোগ, মায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তার শারীরিক অবস্থার স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং শেষ পর্যন্ত সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত ও অবিলম্বে মুক্তির পথ তৈরি হবে।
এনএলডির এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকাশিত ছবিগুলো দেখে অন্তত নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সু চি জীবিত আছেন। তিনি বলেন, সু চিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত, কারণ তাকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র খাইং খাইং সোয়ে জানান, বৈঠকটি ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলে। তিনি বলেন, সু চির স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি ভালো আছেন।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে মিন অং হ্লাইং তার অবশিষ্ট সাজা লঘু করার ঘোষণা দেওয়ার পর গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে ও তার দলকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানী নেপিদোতে সাবেক এক মন্ত্রীর বাসভবনে সু চিকে কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে এবং সেখানেই সোমবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে সু চিকে ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে বা তার সাজা কত বছর বাকি রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমার ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান এখনো মিয়ানমারের নেতৃত্বকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো থেকে বাইরে রেখেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী থাইল্যান্ড দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমারকে আবারও কূটনৈতিক পরিসরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
সূত্র: ABSCBN