
ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েক ডজন স্থাপনায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সময় বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে শুরু হওয়া হামলার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় একাধিক প্রদেশ ও দ্বীপে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
হামলার পর ইরানের বুশেহর প্রদেশেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই প্রদেশেই দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে হামলায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আবাদান শহরের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। একই প্রদেশের আহভাজ শহরের অন্তত সাতটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা।
এ ছাড়া খুজেস্তানের শাদেগান, আরভান্দকেনার ও আবাদান শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হরমোজগান প্রদেশের বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস এবং কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রদেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিজিক শহরে কোনো হামলা হয়নি।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফার্স প্রদেশের কাজরুন শহরের উপকণ্ঠেও মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে কেশম দ্বীপের একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটলেও হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কেশম দ্বীপের চাহ-তাঙ্গো এলাকায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরআইবি। হরমোজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, কিশ দ্বীপে দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বীপটির বিমানবন্দর ও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সেন্টকমের দাবি
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রচেষ্টার পর পাল্টা হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানে আইআরজিসির কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সেনা ও স্থাপনা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান ও তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হুমকি কমিয়ে আনা।
তবে রাতভর চালানো এসব হামলায় ইরানের মোট ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা