News update
  • জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য মৃণাল কৃষ্ণ রায় আর নেই     |     
  • এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে ঘিরে বিতর্ক     |     
  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহেশখালীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন     |     
  • বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৫তম     |     
  • হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ইরানের ছয় শর্ত     |     
জাতীয় 2026-08-01, 1:53pm

সাড়ে ছয় বছরে ঢাকার সড়কে প্রাণ গেল ১,৩৮৪ জনের, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহী

20260801_134616-15173bdcac10e90b2b1d3cac1c2198251785570825.jpg

ছবি- সংগৃহীত


২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের (আরএসএফ) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের ৮০ শতাংশেরও বেশি পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৩৪ জন পুরুষ, ২১৯ জন নারী এবং ১৩১ জন শিশু।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পথচারীদের। মোট নিহতের ৫৯২ জন বা ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশই ছিলেন পথচারী। এছাড়া ৫৩৬ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। বাস, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রী মিলিয়ে নিহত হয়েছেন আরও ২৫৬ জন।

আরএসএফের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাতের সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে ৫১৯ জন বা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। সকালে নিহত হয়েছেন ২৫৮ জন, বিকেলে ১৯৫ জন, সন্ধ্যায় ১৭৪ জন, ভোরে ১৪২ জন এবং রাতের শুরুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৬ জন।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লার গাড়ির মতো ভারী যানবাহনের সম্পৃক্ততা ছিল ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোটরসাইকেলের সম্পৃক্ততা ২৬ শতাংশ, বাসের ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনাসহ অন্যান্য যানবাহনের ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও জিপের ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইপাস সড়কের অভাবে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ভারী পণ্যবাহী যানবাহন রাজধানীর ভেতর দিয়ে চলাচল করে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চগতিতে চলাচলের কারণে সড়ক পারাপারের সময় পথচারীদের জন্য ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অস্থিরতা ও আক্রমণাত্মক চালানোর প্রবণতা তৈরি হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যানবাহনের তুলনায় সড়কের অপ্রতুল ধারণক্ষমতা, একই সড়কে ধীরগতির ও দ্রুতগতির যান চলাচল, দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাত, অনুপযুক্ত বা ব্যবহার অনুপযোগী ফুটওভারব্রিজ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতার অভাব দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল, বিশ্বরোড ও এয়ারপোর্ট রোডকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালুর সুপারিশ করেছে আরএসএফ। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), দুই সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: New Age