News update
  • জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য মৃণাল কৃষ্ণ রায় আর নেই     |     
  • এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে ঘিরে বিতর্ক     |     
  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহেশখালীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন     |     
  • বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৫তম     |     
  • হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ইরানের ছয় শর্ত     |     
জাতীয় 2026-08-01, 8:44pm

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

65598-80619c1c78098980825a4e369f44b8031785595495.jpg


জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।


তিনি বলেন, আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য শীতসহনশীল ব্রি ধান-১১৮ অবমুক্ত করা হবে। এ জাতের ধান আগাম রোপণ ও আগাম কাটার সুযোগ তৈরি করবে। ফলে আকস্মিক বন্যা শুরু হওয়ার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এতে বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


শনিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


মাছ রপ্তানি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি আরও জানান, আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।


কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে। উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


মন্ত্রী বলেন, দেশের ভোক্তারা সাধারণত মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে বেশি আগ্রহী। এ কারণে মাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ ও বিপণন অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।


প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও দেশে আরও ব্যাপক পরিসরে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে ভ্যাকসিন আমদানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে।


খাল পুনঃখনন কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আওতায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী বছরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এর ফলে বন্যা-পরবর্তী সময়ে প্রাণিসম্পদের মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।


মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।