
ছবি- সংগৃহীত
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে (বিএসএ) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘একাল-সেকাল’। উৎসবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের উল্লেখযোগ্য সিনেমার পাশাপাশি সমকালীন সময়ের বেশ কিছু চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ উৎসব চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বকারী পুরোনো সিনেমার পাশাপাশি এতে সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রও স্থান পেয়েছে।
গতকাল বিকেলে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, এমপি এবং অভিনেত্রী কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন স্বাগত বক্তব্য দেন। একাডেমির নাট্য ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন। একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দর্শকদের আগ্রহ বিবেচনায় উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর অতিরিক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি আসন্ন শরতে একটি যাত্রা উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি যাত্রা ও নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজনও অব্যাহত থাকবে। পড়াশোনার পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন সিনেমা হল বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না থাকায় দেশের একাংশের তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্য ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, কবিগান ও বাউল সংগীতের মতো বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারাগুলোকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়া অব্যাহত রাখবে। চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহীদের জন্য একাডেমির দরজা সবসময় খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।
তরুণ ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ এবং শিল্পমূল্যসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন একাডেমির মহাপরিচালক।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। রাত ৮টায় প্রদর্শিত হয় জহির রায়হানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’।
আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শিত হবে খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’। এরপর রাত ৮টায় দেখানো হবে মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের ‘মাস্তুল’।
উৎসবের শেষ দিন আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শিত হবে আমজাদ হোসেনের ‘দুই পয়সার আলতা’। রাত ৮টায় আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চাংখারপুল’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হবে।
তিন দিনব্যাপী এ চলচ্চিত্র উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত।